চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি বাড়েনি

নানা সমস্যার কথা জানাল সংশ্লিষ্ট পক্ষ
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি বাড়েনি
চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও ছুটির দিনসহ অন্যান্য দিন বন্দর ইয়ার্ড থেকে আমদানি পণ্যভর্তি কনটেইনার ও অন্যান্য পণ্যের ডেলিভারি বাড়েনি। চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, কোয়ারেন্টাইন বিভাগ, ব্যাংক ইত্যাদি সংস্থার আন্তরিকতা থাকলে ছুটির দিনেও চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি পণ্যের কনটেইনার ও অন্যান্য পণ্যের ডেলিভারি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়ানো সম্ভব।

গত ২০ মে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে টার্মিনাল ম্যানেজার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সপ্তাহের অন্যান্য দিনের মতো ছুটির দিনেও বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি নেওয়া ও বাড়ানোর জন্য সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ বন্দর ব্যবহারকারী সংস্থাসমূহকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

চিঠিতে আরো বলা হয়, দেশে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের সাপ্লাই চেইন নিরবচ্ছিন্ন রাখা, চট্টগ্রাম বন্দরে আগত কনটেইনারবাহী জাহাজ থেকে কনটেইনার লোডিং-আনলোডিং স্বাভাবিক রাখার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, পোশাকশিল্পের কাঁচামাল ও হিমায়িত পণ্য এফসিএল (কনটেইনার ফুল লোডেড) এবং এলসিএল কার্গো (কনটেইনার লিস্ট লোডেড) দ্রুততম সময়ে ডেলিভারি নেওয়া প্রয়োজন।

এতে বন্দরের সার্বিক অপারেশনাল কাজের গতিশীলতা বজায় থাকবে এবং বন্দরে আসা জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম বজায় থাকবে। এই লক্ষ্যে সপ্তাহের অন্যান্য দিনের মতো শুক্রবার, শনিবার ও রবিবার এবং সরকারি ছুটির দিনেও বেশি পরিমাণ পণ্য ডেলিভারি নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

বাংলাদেশ প্রাইভেট ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) প্রেসিডেন্ট নুরুল কাইউম খান ইত্তেফাককে বলেন, ঈদুল ফিতরের দিন প্রাইভেট কনটেইনার ডিপোগুলো ১ হাজার টিইইউস রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনার জাহাজে তুলে দিয়েছে। ঈদের পরের দুই দিনও তা-ই হয়েছে। বন্দরের পাশাপাশি প্রাইভেট কনটেইনার ডিপোগুলোও ২৪ ঘণ্টা শতভাগ খোলা রাখা হয়েছিল। বন্দর ইয়ার্ড থেকে অফ ডকের ৩৮টি আইটেম বা পণ্যভর্তি কনটেইনার প্রাইভেট ডিপোতে নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু আমদানিকারকেরা বা তাদের লোকজন ঈদের দিন এবং তার পরের দুই দিন চট্টগ্রাম বন্দরে যাননি, প্রাইভেট কনটেইনার ডিপোতেও আসেননি।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জয়েন্ট সেক্রেটারি কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু ইত্তেফাককে বলেন, ডেলিভারি নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রগতি যে হয়নি তা নয়। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের হাতে কাগজ থাকলে, বিভিন্ন খরচ মেটানো হয়ে গেলে শুক্রবারও বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি হয়ে যায় এবং হচ্ছে। তবে ছুটির দিনে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ডেলিভারি না বাড়ার জন্য প্রধান চারটি কারণসহ কয়েকটি কারণ তিনি তুলে ধরেন।

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাইভেট ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোগুলোর অনেকগুলোর পর্যাপ্তসংখ্যক নিজস্ব কনটেইনার বহনকারী ট্রেইলার ও লং ভেহিক্যাল না থাকা এবং তাদের প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্টের অভাব। সেই সঙ্গে কনটেইনারে আমদানিকৃত পণ্যের কাগজপত্র বিদেশ থেকে দেরিতে এলে এবং আমদানিকারক পণ্য ছাড় করাতে টাকাপয়সা জোগাড়ে বিলম্ব করলে পণ্য ডেলিভারিতে দেরি হয়।

কেমিক্যাল বা রাসায়নিক পণ্য আমদানি হলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেগুলোর প্রয়োজনীয় দরকারি কাগজপত্র না পেলে ল্যাবরেটরি টেস্টের জন্য সেম্পল পাঠায়। এতে পণ্য ডেলিভারিতে ছয়-সাত দিন, কখনো ১৫ দিন পর্যন্ত দেরি হয়ে যায়। এছাড়া দেখা যায় বৃহস্পতিবার কাগজপত্র রেডি হয়ে গেলেও শুক্রবার ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অফিস খোলা থাকে না। কোনো কেনো প্রতিষ্ঠান ও অফিস বন্ধ থাকে শুক্র-শনি দুই দিন।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) চট্টগ্রাম বন্দরবিষয়ক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন ইত্তেফাককে বলেন, শিপিং এজন্ট ও ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা শুক্র-শনিসহ সপ্তাহের সাত দিনই অফিস খোলা রাখেন। তবে শুক্র-শনি দুই দিন ব্যাংক খোলা থাকে না, আবার কাস্টমস হাউজে শুক্রবার রপ্তানি পণ্যের এসেসমেন্ট হলেও আমদানি পণ্যের হয় না। ফলে এসব কারণও পণ্যের অপর্যাপ্ত ডেলিভারির জন্য দায়ী।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক ইত্তেফাককে বলেন, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, কোয়ারেন্টাইন বিভাগ, ব্যাংক, কাস্টমস হাউজ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের আন্তরিকতা থাকলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনার ও পণ্যের ডেলিভারি ছুটির দিনসহ সপ্তাহের প্রতিটি দিনই বাড়ানো সম্ভব। চট্টগ্রাম বন্দর এ ব্যাপারে সব সময় চিঠি দিয়ে অনুরোধ করে থাকে। এ ধরনের চিঠি আমরা আগেও দিয়েছি, এবারও দিয়েছি।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডসমূহে কনটেইনার ধারণক্ষমতা বর্তমানে ৪৯ হাজার টিইইউস। এই মুহূর্তে পণ্যভর্তি কনটেইনার রয়েছে ৩৮ হাজার থেকে ৩৯ হাজার টিইইউসের মতো। প্রাইভেট আইসিডিগুলোর কিছু কনটেইনার বন্দর ইয়ার্ডে রয়েছে। তারা অবশ্য তাদের সাধ্যমতো নিয়ে যাচ্ছে। অনেক প্রাইভেট আইসিডির ট্রেইলারের সংকট থাকায় কমবেশি সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, বন্দর থেকে কনটেইনার ও পণ্য ডেলিভরির পরিমাণ আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে শুক্র-শনিবার অন্যান্য দিনের মতো ডেলিভারি এখনো হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সাধারণত প্রতিদিন কাভার্ড ভ্যান ও ট্রেইলারে কনটেইনারসহ মোট ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ট্রিপ ডেলিভারি নিয়ে বের হয়ে যায়। কিন্তু চিঠি দেওয়ার পরও ডেলিভারি ট্রিপের সংখ্যা প্রায় এমনই রয়েছে।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x