নৌকার পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে হাতাহাতির অভিযোগ

চকরিয়ার এমপি জাফরসহ ৩ জনকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি

চকরিয়ার এমপি জাফরসহ ৩ জনকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি
সাংসদ জাফর আলম।

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থীসহ পৌর আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উপর হামলার দায়ে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলমকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ। তার সাথে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু ও উপজেলা যুবলীগ সদস্য এবং ডুলাহাজারা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নেতা হাসানুল ইসলাম আদরকেও।

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভায় তাদের অব্যাহতি দেওয়ার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ মিথ্যা এবং জেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত অরাজনৈতিক ও প্রতিহিংসা বলে উল্লেখ করেছেন সাংসদ জাফর আলম।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনের দিন ধার্য ছিল আসছে ২১ জুন। কিন্তু করোনার মহামারি দেশব্যাপী ফের বেড়ে যাওয়ায় চকরিয়া পৌরসভাসহ সারাদেশে অধিকাংশ নির্বাচন নির্বাচন কমিশন ১০ জুন আবারো স্থগিত ঘোষণা করেছে।

এর পূর্বে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৮ জুন রাত ১০টায় পৌরসভার চিংড়ি চত্বর এলাকায় চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলমের নেতৃত্বে দলীয় নৌকা প্রতীকে মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র আলমগীর চৌধুরী ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরীসহ নেতা-কর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠে।

এ ঘটনায় ৯ জুন বিকালে গ্রামীণ ব্যাংক সেন্টারস্থ নৌকা প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মেয়র প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, দলের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা চকরিয়ার ৬ জন দলীয় নৌকা প্রতীক প্রত্যাশীদের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। মনোনয়ন পেয়ে চকরিয়া আসার পর থেকে স্থানীয় সাংসদ ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম ও তার অনুগত দলীয় অনুসারীরা স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তার ভাতিজা জিয়াবুল হকের পক্ষে কাজ করেন এবং নৌকার পক্ষে কাজ করা নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিতে থাকেন।

তিনি অভিযোগ করেন, দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা প্রদর্শন করে নৌকার পরাজয় নিশ্চিত করতে বিরোধিতা করে আসছেন সাংসদ।

এদিকে, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলমকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে উক্ত কমিটির সিনিয়র সহ- সভাপতি সরওয়ার আলমকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি’র দায়িত্ব দেয়া হয়। পাশাপাশি সাংসদের অনুসারী বলে পরিচিত চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটুকেও পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে উক্ত কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুসলেহ উদ্দিন মানিককে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি’র দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও এমপির পিএস বলে পরিচিত যুবলীগ নেতা হাসানুল ইসলাম আদরকে ডুলাহাজারা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়কের পদসহ যুবলীগের সমস্ত পদ থেকে অব্যাহতির বিবৃতি দিয়েছে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী যুবলীগ।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান সাংসদ জাফরসহ অন্যদের অন্যদের অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ জাফর আলমকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই চকরিয়ার বিভিন্ন পয়েন্টে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে সাংসদ জাফর আলমের অনুগত দলীয় নেতাকর্মীরা।

উপজেলার খুটাখালী, ডুলাহাজারা, ফাঁসিয়াখালী ভেন্ডীবাজার, থানার রাস্তার মাথা, জিদ্দাবাজার ও হারবাংয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বেশ কিছু স্থানে বিক্ষোভ করেছেন তারা। অন্যদিকে, স্বস্তি প্রকাশ করে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র আলমগীর চৌধুরী ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরীর সমর্থকরা।

অব্যাহতির বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ জাফর আলম বলেন, যে সিদ্ধান্তের কথা প্রচার পেয়েছে তা আমার হাতে আসেনি। তবুও গণমাধ্যমের বরাতে যা শুনছি এমনটি হলে এটি অরাজনৈতিক ও অসাংগঠনিক। অব্যাহতিরও কিছু সাংগঠনিক নিয়ম রয়েছে। সেটি পূর্ণ হলেই অব্যাহতির ঘোষণা দেয়া যায়।

সাংসদ জাফর আলম বলেন, মঙ্গলবার রাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রাব্বানির জানাজা শেষে বাড়ি ফেরার পথে চিংড়ি চত্বর এলাকায় কয়েকজন ছেলে আমার গাড়ির গতিরোধ করে স্লোগান দিতে থাকে। এমন সময় আমি প্লাস্টিকের একটি লাঠি হাতে গাড়ি থেকে বের হলেই সবাই পালিয়ে যায়। এ সময় মেয়র আলমগীর এসে অনুরোধ করে বলে, 'ছেলেরা ভুল করেছে। মাফ করে দেন।' তখন আমি গাড়িতে উঠে বাড়িতে চলে আসি। কাউকে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু পরে শুনি আমার নেতৃত্বে তাদের নির্বাচনি পরামর্শ সভায় হামলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিষেধ মতে রাত ১০টায় তো নির্বাচনী কোন পরামর্শ সভা হওয়ার কথা নয়। আমি জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের জন্য নির্বাচন করার পর থেকেই মুজিবুর রহমানসহ তার অনুসারীদের রোষানলে পড়ি। তাই সাংগঠনিক নিয়ম তোয়াক্কা না করেই, মনগড়া ভাবে রাজনৈতিক মাঠ ঘোলাটে করতেই অব্যাহতির নাটক প্রচার করা হচ্ছে। জেলা আওয়ামী লীগের অপরাজনীতিতে জেলা যুবলীগকেও শরীক করা হয়েছে।

চকরিয়া পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটুও এ সিদ্ধান্তকে সাংগঠনিক দাবি করে বলেন, আমার ভুল থাকলে নোটিশ করে জবাব চাইতে পারতো। আমিতো, নৌকা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী আলমগীর চৌধুরীর পক্ষে সড়ক বিভাগের ডাক বাংলাতে নির্বাচনী সভা করেছি। এটাকেও নৌকার বিরোধিতা বলে প্রচার করা হয়েছে, যা হাস্যকর।

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x