পিয়নের পকেট যখন সরকারি কোষাগার

পিয়নের পকেট যখন সরকারি কোষাগার
ছবি: সংগৃহীত

হাট বাজারের সরকারি রাজস্ব আদায়ের টাকা জমা হয়নি সরকারি কোষাগারে। এমনকি কোন হাটে কত টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে তাও জানে না দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি তহশিলদারগণ। এমন অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম এবং কিশোরগঞ্জ হাটে। ফলে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে মোট ১৩টি হাটবাজার রয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় হাট-বাজার হলো গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের গাড়াগ্রাম হাট এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মধ্যে কিশোরগঞ্জ হাট। এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজারা প্রদানের জন্য দরপত্র বিঙ্গপ্তি প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। দরপত্র অনুযায়ী ১১টি হাটবাজার ২ লাখ ৬০ হাজার ১শ টাকার বিনিময়ে ইজারা প্রদান করা হয়। কিন্তু কিশোরগঞ্জ সদর এবং গাড়াগ্রাম হাট ইজারার মাধ্যমে না দিয়ে স্ব-স্ব ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের খাস খাজনা আদায়ের নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকসানা বেগম। দরপত্রে গাড়াগ্রাম হাটের ইজারা মূল্য ছিল ২০ লাখ ১৪ হাজার ২৫০ এবং কিশোরগঞ্জ সদর হাটের ইজারা মূল্য ছিল ৩১ লাখ ২২ হাজার ৩৩৯ টাকা।

গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিক বলেন, গাড়াগ্রাম হাটটি কিশোরগঞ্জ উপজেলার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম হাট। প্রতিবছর হাটটির ইজারা বাবদ সরকার ২০ লাখের উপরে রাজস্ব পেয়ে থাকে কিন্তু চলতি বছর একটি সিন্ডিকেট অনিয়মের মাধ্যমে হাটের রাজস্ব আদায় করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করছে। হাটটি থেকে প্রতি সপ্তাহে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় হয় কিন্তু সিন্ডিকেটের কারণে সরকারি রাজস্ব জমা হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা।

No description available.

গাড়াগ্রাম হাটের রাজস্ব আদায় বাবদ কত টাকা আদায় হয়েছে এবং রাজস্ব আদায়ের টাকা কার কাছে জমা রয়েছে প্রশ্ন করলে ওই ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, কত টাকা আদায় হয়েছে তা আমি জানিনা তবে রাজস্ব আদায়ের টাকা সহকারী কমিশনার ভূমি রাকিবুজ্জামান স্যারের কাছে জমা রয়েছে।

গাড়্রাগ্রাম হাটের রাজস্ব বাবদ সরকারী কোষাগারে কত টাকা জমা হয়েছে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি রাকিবুজ্জামান বলেন, ‘সরকারি কোষাগারে গাড়াগ্রাম ও কিশোরগঞ্জ হাটের রাজস্ব আদায়ের টাকা এখোনো জমা হয়নি। আদায়কৃত রাজস্বের টাকা স্ব স্ব ইউনিয়ন তহশিলদারদের কাছে জমা রয়েছে।’ তাহশিলদের বক্তব্য উপস্থাপন করলে রাকিবুজ্জামান ফিরতি জানান, রাজস্ব আদায়ের টাকা তার পিয়নের কাছে আছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকসানা বেগমের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বাংলা ১৪২৮ (২০২০-২০২১) সনের হাট-বাজার ইজারার জন্য পত্রিকায় বিঙ্গপ্তি প্রকাশ করা। বিঙ্গপ্তি প্রকাশের পর ১৫ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ওই দুই হাটের জন্য কেউ দরপত্র না কেনায় নিয়ম অনুযায়ী হাট দুটি খাস খাজনা আদায়ের জন্য ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। গত তিনমাসে হাটের রাজস্ব বাবদ কত টাকা আদায় হয়েছে এবং আদায়কৃত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি। তিন মাসের আদায়কৃত টাকা একসঙ্গে সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

ইত্তেফাক/এসজেড

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x