মায়ের মুক্তির দাবিতে অসহায় ২ শিশুর অবস্থান কর্মসূচি

মায়ের মুক্তির দাবিতে অসহায় ২ শিশুর অবস্থান কর্মসূচি
অবস্থান কর্মসূচী। ছবি: ইত্তেফাক

শাশুড়ি আলেয়া বেগমের দেওয়া মিথ্যা মামলায় পুত্রবধূ অনিতা জামান জেল হাজতে। অন্যদিকে মায়ের মুক্তির দাবিতে অবস্থান ধর্মঘটে আছেন বড় ছেলে আলিফ (১৩) ও দুগ্ধপোষ্য ছোট ছেলে গালিফ (আড়াই বছর)। মায়ের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা রাস্তা থেকে উঠবেন না বলে জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (১৭ জুলাই) সকাল থেকে বরগুনা টাউনহল চত্ত্বর ও পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন তারা। অসহায় দুই শিশুর এই অবস্থান কর্মসূচী দেখতে ভিড় জমান উৎসুক জনতা। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই। ধর্মঘটে তাদের দাবি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও অনতিবিলম্বে মায়ের মুক্তি হোক। সেই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ভুক্তভোগী শিশু আলিফের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বাড়ি বরগুনার খেজুরতলা গ্রামে। বাবার চাকরির সুবাদে তারা গাজীপুরে বসবাস করে আসছিল। সেখানে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে একটি পরীক্ষায় ১ম স্থান অধিকার করে মেধাবী শিক্ষার্থী আলিফ ইংল্যান্ডে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছে। তার ভিসাও প্রস্তুত অথচ এই সময়ে তার দাদির দায়ের করা মিথ্যা মামলায় কারাগারে রয়েছে তাদের মা আনিতা জামান। শিশু আলিফ আরও জানায়, তার বয়স এখন ১২ বছর অথচ মিথ্যা মামলায় তার বয়স ১৮ বছর দেখিয়ে তাকেও আসামি করা হয়েছে। No description available.স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুত্রবধূকে জেলে পাঠিয়ে গত শুক্রবার শাশুড়ি আলেয়া বেগম তালা ভেঙে তার মেয়ে মনিরাকে নিয়ে ঘরে ওঠেন। তবে এই বসবাসকৃত ঘরখানা অনিতা জামানের বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে তৈরি করা। মেয়ে মনিরা বেগমের একাধিক বিবাহের পরও বাবার বাড়িতে থেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় দুই ছেলে ও দুই পুত্রবধূকে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। ছাড়েনি মাত্র ১৩ বছরে শিশু আলিফকেও। No description available.সূত্র জানায়, বসতঘরে পুত্রবধূ থাকলে শাশুড়ি আলেয়া বেগম ও মেয়ে মনিরা থাকবে না। তাই তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে তারা ঘরের তালা ভেঙ্গে প্রবেশ করেন। অনিতা জামানের বড় ছেলে আলিফ ঘরের তালা ভেঙে ওঠার বিষয়টি জরুরি কল সেন্টার ৯৯৯ এ ফোন করে অভিযোগ করলে বরগুনা সদর থানার কর্তব্যরত এসআই দেবাশীস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কিন্তু ঘরে তালা ভেঙে ওঠার বিষয়টি তেমন গুরুত্বসহকারে আমলে নেননি। কারণ মা ছেলের ঘরে তালা ভেঙে ওঠা কোন অপরাধ নয় বলে জানান। আলিফের পিতা জুয়েল বাড়িতে আসলে তাকে ঝুলিয়ে মারবে বলে জানান। শিশু আলিফ সহযোহিতা পাবার বদলে পেয়েছে বঞ্চনা। বিষয়টি অন্যদিকে মোড় নেয়। আলেয়ার কান্নায় বরগুনা পুলিশ সুপারের মন গলে যায়, ফলে বিকেলে তার বাড়িতে গিয়ে খাবার দিয়ে আসেন। যা ফলাও করে গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে। বিষয়টি সঠিক তদন্ত করে সঠিক বিচারের আওতায় আনাসহ অনিতা জামানের অচিরেই মুক্তি মিলবে বলে আশা করছেন বরগুনার সচেতন মহল। এখন শুধু বরগুনাই নয় বরং গোটা বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে বিজ্ঞ আদালতের রায়ের দিকে।

এ বিষয়ে অনিতা জামানের আইনজীবি এ্যাড. মোঃ নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন- আমি অনিতা জামানের জামিনের জন্য বিজ্ঞ বরগুনা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেছি। ভার্চ্যুয়াল আদালতে রবিবার জামিনের শুনানি হবে বলে আশা করছি।

ইত্তেফাক/এসজেড

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x