এবার চামড়া সংগ্রহ কম হওয়ার আশঙ্কা

এবার চামড়া সংগ্রহ কম হওয়ার আশঙ্কা
সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে ঢুকছে কাঁচা চামড়া, কর্মব্যস্ত ট্যানারি শ্রমিকরা।

পবিত্র ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনেও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কাঁচা চামড়া আসছে সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে। তবে ঈদের দিন বিকেল থেকেই ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে সংগ্রহ করা কাঁচা চামড়া ট্যানারিগুলোতে ঢুকতে শুরু করেছে। এবার করোনা ও বন্যার কারণে বিগত বছরের তুলনায় কাঁচা চামড়া সংগ্রহে কিছুটা কম হবে বলে আশঙ্কা করছেন মৌসুমী ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকরা।

সাভারের হেমায়েতপুরে হরিনধরা এলাকায় অবস্থিত চামড়া শিল্প নগরীর বিভিন্ন ট্যানারিগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা এবং এর আশপাশের এলাকা থেকে ট্রাকযোগে আসা কাঁচা চামড়াগুলো বিভিন্ন ট্যানারিতে নামানো হচ্ছে। এরপর ট্যানারি শ্রমিকরা চামড়াগুলোকে পরিষ্কার করে লবণ মাখিয়ে গুদামে স্তূপ করছেন এভাবে প্রতিটি ট্যানারিতেই শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করলেও বেশীরভাগ শ্রমিকের মুখেই কোনো মাস্ক দেখা যায়নি। কারও কাছে মাস্ক থাকলেও তা গলা কিংবা থুতনির নিচে নামিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব মানার বিষয়ে উদাসীন শ্রমিকদের কাছে মাস্ক না পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নানা অজুহাত দিতে থাকেন তারা।

মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ঈদের দিন বিভিন্ন মাদরাসা এবং মহল্লায় মহল্লায় ঘুরে চামড়া কিনেছেন তিনি। চামড়াগুলো যাতে নষ্ট না হয় এবং ভালো দামের আশায় ঈদের দিনই সন্ধ্যায় সেগুলো ট্যানারিতে নিয়ে আসেন। তবে এদিন চামড়াগুলো সঠিক দামে বিক্রি করতে না পারায় সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার নষ্ট হওয়া চামড়াগুলো কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন তিনি।

তবে ট্যানারি মালিকদের প্রতিনিধিরা জানান, সরকারের বেঁধে দেওয়া দরের চেয়েও ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দাম দিয়ে বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিমখানা থেকে আমরা কোরবানির পশুর চামড়া কিনেছি। চামড়া ভালো হলে দামও ভালো দেওয়া হয়। আমাদের ক্রয় প্রতিনিধিরা ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করছেন।

বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক সাখওয়াত উল্লাহ বলেন, গত বছরের ন্যায় এবারও ৮০ লাখ গবাদি পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। চামড়া পরিবহন লকডাউনের আওতামুক্ত থাকায় ট্যানারিগুলোতে চামড়ার সঙ্কট হবে না বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, করোনার অনেক মানুষ কুরবানি না দেওয়ায় চামড়ার সংগ্রহ কিছুটা কম হতে পরে। পরিস্থিতি উন্নতি না হলে চামড়া নিয়ে কিছুটা সঙ্কটও দেখা দিবে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x