কক্সবাজারে ১২ গ্রাম প্লাবিত, সাগরে তলিয়ে গেছে বালিয়াড়ি ও রেস্ট হাউস 

কক্সবাজারে ১২ গ্রাম প্লাবিত, সাগরে তলিয়ে গেছে বালিয়াড়ি ও রেস্ট হাউস 
ছবি: ইত্তেফাক

লঘুচাপ ও পূর্ণিমার প্রভাবে বাড়ন্ত জোয়ারের পানিতে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের বারটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উত্তাল সাগরে জোয়ারের পানি ৩ থেকে ৪ ফুট বৃদ্ধি পেয়ে কক্সবাজার সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্টের প্রায় ১৫০ মিটার অংশের বালিয়াড়ি সাগরে বিলীন হয়ে গেছে।

ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে পড়েছে বিমান বাহিনীর স্থাপনা। উপড়ে গেছে অসংখ্য ঝাউগাছ। জোয়ারের ঢেউয়ের তোড়ে ভেঙ্গে পড়েছে কক্সবাজার হিমছড়ির পরিত্যক্ত মাধবী রেস্টহাউসটি। শনিবার (২৪ জুলাই) দুপুরের জোয়ারের সময় এসব প্লাবন ও ভাঙ্গনের ঘটনাগুলো ঘটে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত সৈকত এলাকা, কুতুবদিয়ার প্লাবিত গ্রামগুলো পরিদর্শন ও ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করা হয়েছে।

কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বৈরী আবহাওয়া ও পূর্ণিমার প্রভাবে বাড়ন্ত জোয়ারের পানিত কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের বারটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ২৪ জুলাই (শনিবার) দুপুরে পূর্ণিমার জোয়ারের পানিতে এসব গ্রাম প্লাবিত হয়। No description available.স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হামিদ বলেন, দেড় মাস আগে ঘূর্ণিঝড়ে আমার ঘরবাড়ি ভেঙে যায়। অনেক কষ্ট করে মেরামত করেছি। কিন্তু আবারও নোনা পানি ডুকে ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এর একটা স্থায়ী সমাধান চাই।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানান, পূর্ণিমার জোয়ার ও লঘুচাপের ফলে সাগরে ৩ থেকে ৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ডায়াবেটিক পয়েন্টে সৈকতের ২০০ মিটার অংশ সাগরে বিলীন হয়েছে। ইয়াসের সময় বিলীন হওয়া কুতুবদিয়ার আলীআকবর ডেইল ইউনিয়নের কিছু বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকেছে বলে খবর পেয়েছি। কক্সবাজার সৈকত এলাকায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জিও ব্যাগ দিয়ে প্রতিরক্ষা কাজ এবং কুতুবদিয়াতেও দ্রুত কাজ শুরুর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।No description available.কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আমিন আল পারভেজ জানান, সৈকতের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এমন ভাবে মেরামত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে আর ক্ষয়ক্ষতি না হয়।

এদিকে, সাগরের জোয়ারের ঢেউয়ের তোড়ে ধ্বসে পড়েছে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ রোডের হিমছড়িস্থ জেলা পরিষদের রেষ্ট হাউজ ‘মাধবী’। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ জুলাই) বেলা সোয়া ১১ টার দিকে উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে রেষ্ট হাউজ ভবনটি ধসে পড়ে বলে জানান কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা সমীর রঞ্জন সাহা।

জেলা পরিষদ সুত্র জানায়, ঝুকিপুর্ণ হওয়ায় তিন বছর আগে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। শনিবার বেলা সোয়া ১১ টার দিকে হঠাৎ সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে ভবনটি ধসে পড়ে। ধসে পড়া ভবনের বিভিন্ন অংশ আটকে আছে জিও ব্যাগে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সূত্রে জানা গেছে, লঘুচাপের কারণে ৩ নম্বর স্থানীয় সর্তক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকার পাশাপাশি বাতাসও রয়েছে। আগামী কয়েকদিন এ অবস্থা অব্যাহত থাকবে।

ইত্তেফাক/এসজেড

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x