এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছে মানুষ

সিলেটে জুলাই মাসে রেকর্ড পরিমাণ রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর আশঙ্কা
এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছে মানুষ
করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

সিলেট বিভাগে রবিবার মৃতের সংখ্যা ২৪ ঘণ্টায় ৯-এ নেমে আসলেও আক্রান্তের সংখ্যা ৮৯৬ জন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার একদিনে করোনায় মৃত্যুর রেকর্ড ছিল ১৭। জুলাই মাসে বেশ কয়েকদিন রেকর্ড পরিমাণ রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু হয়। প্রতিদিন হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে রোগী নিয়ে ছুটছেন স্বজনরা। শনিবার নগরীর ১০টি হাসপাতাল ঘুরেও বিয়ানীবাজারের করোনা আক্রান্ত লাল চান বিবির জন্য একটি আইসিইউ মেলেনি।

আগস্টে সংক্রমণ কমার আশাবাদ, তবে....

এদিকে জুলাই মাসে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ার কারণ হিসেবে মানুষের অসচেতনাতেই দায়ী করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। গ্রামে করোনাভাইরাসের উপসর্গগুলোকে এখনও মানুষ সাধারণ জ্বর সর্দির মতো মনে করছেন। তাই পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। আক্রান্ত ও শনাক্তে জুলাইকেও ছাড়িয়ে যাবে আগস্ট মাস এমন আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের কর্মকর্তারা। তবে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় ইত্তেফাককে বলেন, আগস্টে সংক্রমণ কমতে পারে। তবে স্বাস্থ্য বিধি মানতে হবে। এই মাস থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ড পর্যায়ে টিকা দেয়া হবে। এরই মধ্যে সিলেট বিভাগে প্রায় ২ লাখ টিকা প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এতে সংক্রমণ কমাতে কিছুটা সাহায্য করবে।

আইসিইউ এখন সাত রাজার ধন:

অন্যদিকে সিলেট বিভাগে ‘আইসিইউ শয্যা যেন এখন সাত রাজার ধন। জুলাই মাস থেকেই সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউ‘র তীব্র সংকট চলছে। সাধারণ শয্যার অভাব। অক্সিজেন সংকটে রোগীর মৃত্যুও ঘটছে। সিলেট বেসরকারি হাসপাতাল ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ও নূরজাহান হসপিটালের স্বত্বাধিকারী ডা. নাসিম আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘কোথাও সিট খালি নেই। তার হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন রয়েছে। আরও কিছু আইসিইউ শয্যা বাড়ানো যাবে। কিন্তু অক্সিজেন সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। একই কারণে অন্যান্যও বেসরকারি হাসপাতালও রোগী নিচ্ছে না। সরকারী বেসরকারি হাসপাতালের সবকটি আইসিইউ রোগীতে ঠাসা।

সূত্র জানায়, সিলেটে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল মিলে কোভিড চিকিৎসার জন্য রয়েছে প্রায় ৮শ বেড। আর আইসিইউ বেড মাত্র ১২১টি। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮৪টি সাধারণ ও ১৬টি আইসিইউ, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তিনটি ওয়ার্ড মিলে ১৬৫টি সাধারণ ও ৮টি আইসিইউ , খাদিমপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১টি করে সাধারণ আইসোলেশন বেড রয়েছে।

এছাড়া সিলেটে বেসরকারি সকল হাসপাতাল মিলে প্রায় সাড়ে ৪শ সাধারণ ও ৯৭টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। কিন্তু কোথাও বেড খালি নেই। ভর্তি হতে না পেরে কেউ কেউ হাসপাতালগুলোতে নাম নিবন্ধন করাচ্ছেন-সিট খালি হলে বেড পাওয়ার আশায়। এই প্রেক্ষিতে এক কোটিরও বেশী অধ্যুষিত সিলেটে আরও ৫ শত থেকে ১ হাজার আইসিইউ চালু করার দাবি উঠেছে। তবে এই ক্ষেত্রে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের অবকাঠামোর বিষয়টি বিবেচনায় আনার পরামর্শও দিয়েছেন অনেকে।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x