অক্সিজেন সংকটে সিলেটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা

অক্সিজেন সংকটে সিলেটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট বিভাগের সর্ববৃহৎ এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রুটিন অপারেশনও এবার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সিলেটে অক্সিজেন নিয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বিরাজ করছে ভয়াবহ অবস্থা।

‘সঞ্চালন কমে গেছে। যদি কোন কারণে নীল হয়ে যায়, তবে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ,’ এই মন্তব্য করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রতিদিন অক্সিজেন সরবরাহ করা গেলে সংকট কিছুটা কাটতে পারে।’

ওসমানী হাসপাতালে স্প্রেক্টা এবং লিন্ডে অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকে-জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মজুদের অভাবে আইসিইউতে অক্সিজেন সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। লাইনের প্রেসারও কমে গেছে। যে পরিমাণ অক্সিজেন লাইনে সঞ্চালন হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি চাহিদা। ওসমানীতে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার লিটার অক্সিজেনের চাহিদা। চাহিদা সাথে সাথে পূরণ হচ্ছে না। ফলে মজুদ কমে যায়। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সপ্তাহে এক বা দুদিন অক্সিজেন সরবরাহ করে। যে কারণে সংকট দেখা দিচ্ছে।’

সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম জানান, লকডাউনসহ অন্যান্য কারণে অনেক সময় অক্সিজেন সরবরাহ প্রায় শেষ হয়ে যায়। চাহিদা নিয়ে অনেকেই আতঙ্কিত থাকেন। তিনি বলেন, ‘অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ানোর প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে।’

সিলেটে অক্সিজেন সরবরাহে নিয়োজিত দক্ষিণ সুরমার বিএইচডি (প্রা.) লিমিটেড-এর স্বত্বাধিকারী হযরত আলী জানান, আগের তুলনায় অক্সিজেনের চাহিদা বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ। আগে প্রতিদিন বড় সিলিন্ডার ১০টি এবং ছোট সিলিন্ডার ৮০-৯০টি বিক্রি হতো। এখন প্রতিদিন ছোট সিলিন্ডার ৫০০টি এবং বড় সিলিন্ডার ৯০-১০০টির চাহিদা বেড়েছে। এই অবস্থায় তারা হিমশিম খাচ্ছেন ।

কোভিড-১৯: শরীরে অক্সিজেন কমে গেলে প্রাথমিকভাবে যা করতে পারেন - BBC News  বাংলা

সিলেটে করোনা রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহে নিয়োজিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ‘শেইড ট্রাস্ট’এর ম্যানেজিং ট্রাস্টি মুহাম্মদ দিলওয়ার হোসাইন জানান, ১০টি অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য গত মঙ্গলবার রাতে তারা একটি অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে দেড় লাখ টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু, বুধবার মাত্র ৫টি সিলিন্ডার দেওয়া হয়।

সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ আরও অনেকেই অক্সিজেন স্বল্পতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘সিলেটে অক্সিজেনের মজুদ বাড়ানো জরুরি।’

বেসরকারি হাসপাতালের একজন পরিচালক জানান, তার হাসপাতালে আরও ১০টি আইসিইউ চালুর অবকাঠামো রয়েছে। অক্সিজেনের নিশ্চয়তা না থাকায় তা চালুর সাহস পাচ্ছেন না।

এদিকে গত মঙ্গলবার এক ভার্চুয়াল সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানান, সিলেট এম এ জি ওসমানী হাসপাতালে ৩০ হাজার লিটার এবং শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১০ হাজার লিটার সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট রয়েছে। সরবরাহে ঘাটতির কারণে সিলেটে অক্সিজেনের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘চাহিদা পূরণে সিলেটে শিগগিরই চারটি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর পাঠানো হচ্ছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ওসমানী হাসপাতালে আরও একটি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করা হয়েছে। সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকেও কর্পোরেশনের খরচে সেখানে একটি আলাদা অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে পরবর্তীতে এ অর্থ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রদান করা হবে। গত মঙ্গলবার সিসিক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ওসমানী হাসপাতালে অক্সিজেন সঞ্চালন ও প্ল্যান্ট স্থাপনের পাশাপাশি অক্সিজেন কোম্পানি.সমূহের সাথে আলোচনা করে সিলেটে অক্সিজেন সাপ্লাই বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।’

থামছেনা মৃত্যুর মিছিল

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ, সিলেট-এর সহকারী পরিচালক ডা. নুরে আলম শামীম জানান, বুধবার এ বিভাগে সর্বোচ্চ ২০ জনের মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার ১৩ জন মারা যান।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x