নাগেশ্বরীতে ৪ বছরেও পুনঃনির্মাণ হয়নি বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়া ব্রিজ

নাগেশ্বরীতে ৪ বছরেও পুনঃনির্মাণ হয়নি বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়া ব্রিজ
নাগেশ্বরীতে ৪ বছরেও পুন:নির্মাণ হয়নি বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়া ব্রিজ। ছবি: ইত্তেফাক

নাগেশ্বরীতে ৪ বছরেও পুনঃনির্মাণ হয়নি বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়া পাটেশ্বরী ব্রিজ। দুর্ভোগে ধনীটারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিশু শিক্ষার্থীসহ ৭ গ্রামের মানুষ।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাইনুল হক প্রধান জানান, কেয়ার বাংলাদেশ ১৯৯৩ সালে ৬ লক্ষ ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে মেসার্স আদম আলী ট্রেডার্সের মাধ্যমে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের পাটেশ্বরী বিলে পাটেশ্বরী-ধনীটারী সড়কে ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যরে পাটেশ্বরী ব্রিজ নির্মাণ করে। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগে ওই বছরেই বন্যার পানির তীব্র স্রোতে প্রথম দফায় তা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ভেসে যায় অনেক নির্মাণ সামগ্রী। বন্যা পরবর্তী ব্রিজের বাকী কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর বেশ কয়েক বছর বড় কোনো বন্যা না হওয়ায় টিকে যাওয়া সেই ব্রিজে ২০১৫ সাল পর্যন্ত নির্বিঘ্নে পারাপার করে আসছিলো এলাকার মানুষ। ২০১৬ সালে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে দ্বিতীয় দফায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে হেলে যায় ব্রিজটি। ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তারপরেও মানুষের চলাচল অব্যাহত ছিল। ২০১৭ সালের বন্যায় তা সম্পূর্ণরূপে ভেঙ্গে ভেসে যায়। এরপর ৪ বছরেও তা পুন: নির্মাণ হয়নি।

ইউপি মেম্বার আব্দুস সোবাহান বলেন, সারা বছরই পানি থাকে পাটেশ্বরী বিলে। বর্ষায় এর উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। তখন পারাপারে স্থানীয়রা কলাগাছ অথবা সারি সারি ড্রাম সাজিয়ে ভেলা তৈরি করে। সে সময় এতে চড়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করে মানুষ। শীত মৌসুম এলে পানি কমে। কোথাও তলানি ভেসে যাওয়ায় ভেলা আটকে যায়। তবে বেশিরভাগ জায়গায় পানি বেশি থাকে। তখন ভেলার পরিবর্তে হাটা পায়ে প্রায় হাঁটু পানি পাড়ি দেয় মানুষ।

ধনিটারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুর রহমান জানান, এ অবস্থা চলছে গত ৪ বছর ধরে। এ পথে ওই বিদ্যালয়ের ছোট ছোট শিশু শিক্ষার্থীরা একটু অসাবধানতায় প্রায় প্রতিদিন বই খাতা ভিজিয়ে বাসায় ফিরে যায়। এ কারণে কমে গছে শিক্ষার্থী উপস্থিতি সংখ্যা। সমস্যায় পড়তে হয় ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষককে। অন্যান্য মানুষদেরও একই অবস্থা। তাই তারা সন্ধ্যার আগে হাট-বাজার থেকে বাড়ি ফেরেন।

বামনডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ব্যাপারী বলেন এলাকাবাসীর পারাপারের দুর্ভোগ নিরসনে সেখানে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি।

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) আসিফ ইকবাল রাজিব জানান, পাটেশ্বরী ব্রিজ পুন:নির্মাণে বৃহত্তর রংপুর জেলা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। একনেকে প্রজেক্টটি পাশ হলে পরে এর কাজ শুরু হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x