ইসলামপুরে মহিলা মাদরাসা থেকে তিন শিক্ষার্থী নিখোঁজ

ইসলামপুরে মহিলা মাদরাসা থেকে তিন শিক্ষার্থী নিখোঁজ
ছবি: ইত্তেফাক

জামালপুরের ইসলামপুর এক মহিলা মাদরাসা থেকে ৩ শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মো. আসাদুজ্জামান ইসলামপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-৫১১) করেছেন। এদিকে থানা পুলিশ ২ শিক্ষক ও ২ শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

গোয়ালেরচর ইউনিয়নের মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফ বীরউত্তম সেতুর পুর্বপাড়ের বাংলা বাজার এলাকায় দারুত তাকওয়া মহিলা কওমী মাদরাসাটি অবস্থিত। মাদ্রাসাটিতে ৭৫ জন শিক্ষার্থীকে ৮ জন শিক্ষক পাঠদান করান। মাদ্রাসার মোহতামিত আসাদুজ্জামান পরিবার নিয়েই মাদ্রাসা ভিতরে একটি কক্ষে বসবাস করেন। সাইনবোর্ড সর্বস্ব তাকওয়া মহিলা মাদ্রাসা নামে মাদ্রাসাটি ২০২০ সাল থেকে পরিচালনা করে আসছেন তিনি।

ইসলামপুর থানা সূত্রে জানা যায়, ওই মাদরাসা থেকে উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের পোড়ারচর সরদারপাড়া গ্রামের মাফেজ শেখের মেয়ে মীম আক্তার (৯), গোয়ালেরচর ইউনিয়নের সভূকুড়া গ্রামের সুরুজ্জামানের মেয়ে সূর্যবানু (১০) ও মোল্লাপাড়া গ্রামের মনোয়ার হোসেনের মেয়ে মনিরা (১১) নামের দ্বিতীয় শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী গত দুইদিন আগে ভোর থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছে।

মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মাদ্রাসা আবাসিক হলে শিক্ষার্থীরা রাতে মাদরাসা কক্ষেই থাকে। ঘটনার দিন ভোর রাতে শিক্ষার্থীদের ফজরের নামাজ পড়ার জন্য ঘুম থেকে জাগানো হয়। অন্যান্য ছাত্রীর মতোই দ্বিতীয় শ্রেণির ওই তিন ছাত্রীও নামাজের প্রস্তুতি নেয়। নামাজের পর থেকে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের উদ্ধারে থানায় জিডি করেছি।

নিখোঁজ মীম আক্তারের মা হাসিনা বেগম জানান, মীম আক্তার গত এক বছর ধরে ওই মাদরাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে আসছিলো। ১৫ দিন আগে মীমকে মাদরাসায় রেখে আসি। গত রবিবার দুপুরে মাদরাসার হুজুর মীমের নিখোঁজের খবর দেন। মেয়ের নিখোঁজে ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে।

নিখোঁজ মনিরার বাবা মনোয়ার হোসেন বলেন, গত ৯ দিন আগে মেয়েকে মাদরাসায় রেখে আসি। এখনও মেয়ের সন্ধান পাইনি।

এ বিষয়ে ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজেদুর রহমান ও ইসলামপুর সার্কেলের সিনিয়র এএসপি সুমন মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় মাদ্রাসার সকল শিক্ষার্থীকে রাতেই তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দিয়ে মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুহতামিম মাওলানা আসাদুজ্জামানসহ ৪ জনকে থানায় আনা হয়েছে। নিখোঁজ শ্ক্ষিার্থীদের খোঁজে বের করতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x