৪ বছরেও হয়নি সড়ক, দুর্ভোগে লাখো মানুষ

৪ বছরেও হয়নি সড়ক, দুর্ভোগে লাখো মানুষ
রাণীনগর-কালীগঞ্জ সড়ক। ছবি: ইত্তেফাক

দীর্ঘ ৪ বছরেও সংস্কার হয়নি ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ নওগাঁর রাণীনগরের রাণীনগর-কালীগঞ্জ সড়ক। এর ফলে পথচারী ও স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, ২০১৮ সালে শুরু হওয়া সংস্কার কাজ এখনো শেষ হয়নি। পুরো রাস্তা খানাখন্দে ভরা। তাই প্রতিদিন ট্রাক, সিএনজি, অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন চালকসহ আরোহীরা।

নওগাঁ সড়ক ও জনপথ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, রাণীনগর-আবাদপুকুর-কালীগঞ্জ ২২ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও আধুনিকায়নের জন্য ২০১৮ সালে দরপত্র আহ্বান করে সওজ। এতে ২২ কিলোমিটার সড়ক, ২৬টি কালভার্ট ও ৪টি সেতু নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয় প্রয় ১০৫ কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী সড়ক সংস্কারের জন্য ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

এরই মধ্যে কালভার্ট ও সেতুর কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্প্রেকটা কনস্ট্রাশন। পাশাপাশি সড়কের প্রশস্তকরণ, মাটি ভরাট ও কার্পেটিংয়ের কাজও শুরু করে। কিন্তু কাজে ব্যাপক অনিয়মসহ নির্ধারিত সময়ে সড়ক তৈরি শেষ করতে না পারার অভিযোগে সওজ থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কয়েক দফা চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়। এক পর্যায়ে সড়কটি নির্মাণ শেষ করতে কাজের সময় বাড়ানো হয়। এরপরও কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চলতি বছরের ৩ মে চুক্তি বাতিল করা হয়। একইসঙ্গে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের কোথাও পাথর, কোথাও ইটের খোয়া দিয়ে রাখা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন যাবত কাজ না করায় সড়কের সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এই পথচারী আবাদুপুকর বাজারের হাফিজুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান বলেন, সড়কে এত বড় বড় গর্ত হয়েছে যে, দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি সড়ক না পুকুর! প্রতিদিনই যানবাহন উল্টো দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা মরণফাঁদ থেকে মুক্তি চাই। আর কতদিন এই দুর্ভোগ পোহাতে হবে?

No description available.

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্প্রেকটা কনস্ট্রাশন মুখপাত্র পিটার হোসেন বলেন, ‘কাজের শুরুতে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপের কারণে কাজ শেষ করতে দেরি হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাড়তি সময় চাই আমরা। কিন্তু অতিরিক্ত সময়েও একই সমস্যা হয়। এর ফলে আমরা আর কাজ শেষ করতে পারিনি। পরে চার কোটি টাকা জরিমানা দিয়ে চুক্তি বাতিল করা হয়।’

No description available.

নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান সাজিদ বলেন, ইতোমধ্যে নতুন করে এই সড়কের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সব বিভাগীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। আশা করি, আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. আনোয়ার হোসেন হেলাল বলেন, ‘উপ-নির্বাচনে আমি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন দফতর ঘুরে ঘুরে নতুন করে কাজ শুরুর উদ্যোগ নিয়েছি। এর ফলে গত মাসে নতুন করে দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি, দ্রুত এই সড়কের কাজ শুরু হবে।’

ইত্তেফাক/এনই/এসজেড

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x