‘হার সৌগে নিয়া গেলো নদী, হামরা কুনঠে থাকমো’

‘হার সৌগে নিয়া গেলো নদী, হামরা কুনঠে থাকমো’
ছবি: ইত্তেফাক।

‘হার (আমার) কেহ ন্যাই। হামি (আমি) গাঁয়ের মানুষের বাড়তে বাড়তে (বাড়িতে বাড়িতে ) খ্যাইটা (শ্রম দিয়ে) খাইতুন (খেতাম)। এখন তাদের সৌগে নদীতে পড়ে গেছে। ‘হার সৌগে নিয়া গেলো নদী, হামরা কুনঠে থাকমো’? পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে সর্বস্বান্ত হয়ে নিজের দুর্ভাগ্যের কথা ইত্তেফাক অনলাইনকে বলছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়ন বৃদ্ধা লবন দাসী রবিদাস।

কেবল এই লবন দাসী রবিদাস নন, পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে পাঁকা ইউনিয়নে চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের ১৭০ পরিবারেরই বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে। আরও ১৩০ পরিবার পড়েছে চরম হুমকিতে। এছাড়া, নদীতে তলিয়ে গেছে প্রায় ৮ হাজার বিঘা আম বাগান, বাঁশ বাগান ও ফসলি জমি।

No description available.

নদীভাঙনের কবলে পড়ে বোগলাউড়ি গ্রামে খুপরি তুলে বাস করছে সহিমুদ্দিন মোড়ল।

চরলক্ষ্মীপুর জ্যাটপাড়া গ্রামের মৃত শাম মোহাম্মদ আলীর ছেলে সহিমুদ্দিন মোড়ল (৯২) বলেন, ‘জীবনে ৫ বার নদীভাঙনের কবলে পড়েছি। এবার বোগলাউড়ি গ্রামের (বর্তমানে নতুন কানছিঁড়া নামে পরিচিত) নজরুল ইসলাম হাজির বাড়ির উঠানে ছোট একখান খুপরি তুলে বাস করছি। এর আগে বার বার ভাঙনের কবলে পড়ে শেষে চরলক্ষ্মীপুর জ্যাটপাড়া গ্রামে একজনের সাম্যন্য কয়েক কাঠা জমি বর্গা নিয়ে কোনো রকমে দিনাদিপাত করছিলাম। সেটাও এবার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের মোশারফ হোসেন (৬০),আলাউদ্দিন, মিঠু, জিয়ারুল ইসলাম, পারুল ইসলাম,সুমন, শেফালী বেগম, জোসনা বেগম, সাদিকুল ইসলাম, আতাবুর রহমানসহ শতাধিক নারী-পুরুষ জানান, গত দেড় মাসে চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের জ্যাট পাড়া, ক্যাইঠাপাড়া,মড়ল পাড়া, ডাক্তার পাড়া, বহরাপাড়া, কলিমুদ্দিন বিশ্বাসের পাড়ায় পদ্মা নদীর ভাঙন চলছে। এরমধ্যে কয়েক দিনের ভাঙন খুব জোরে শুরু হয়েছে। তারা কোনো উপায় না পেয়ে বোগলাউড়ি ঘাটের দুই পারে ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের দুই পাশে আশ্রয় নিয়েছেন।

স্থানীয় আওয়া মীলীগ নেতা ও চরলক্ষ্মীপুর হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক বারী বলেন, ‘গ্রামের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। পদ্মার ভাঙনে ৩ শ পরিবারের মধ্যে ১৭০ পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আরও ১৩০টি পরিবার হুমকির মুখে রয়েছে। নদীভাঙন এলাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

No description available.

বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছে নদিভাঙনের কবলে পড়া সাধারণ মানুষ।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব আল রাব্বী ও উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে তারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি ওপর মহলকেও জানিয়েছেন। বরাদ্দ এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগীয় উপ-সহকারী প্রকৌশলী ময়েজ উদ্দিন বলেন, ‘চরলক্ষ্মীপুর এলাকার ভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’

ইত্তেফাক/এনই/এএইচপি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x