পল্লী বিদ্যুতের তারে প্রাণ গেলো চুয়েটের নিরাপত্তা প্রহরীর

পল্লী বিদ্যুতের তারে প্রাণ গেলো চুয়েটের নিরাপত্তা প্রহরীর
নারায়ণ কর। ছবি: ইত্তেফাক

চট্টগ্রামের রাউজানে পল্লী বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে প্রাণ গেলো চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)'র নারায়ণ কর (৫১) নামের এক নিরাপত্তা প্রহরীর।

২২ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকাল ১০টার দিকে ইমাম গাজ্জালী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ গেটের সামনে চুয়েট প্রাচীর-লাগোয়া বৈদ্যুতিক খুঁটির তারে জড়িয়ে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। চুয়েট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অনুপম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

চুয়েট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সম্পাদক মাসুদ হোসেন রুবেল ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘নারায়ণ কর আমাদের দীর্ঘসময়ের সহকর্মী ছিলেন। তিনি চাকরির পাশাপাশি সবজি আবাদ করতেন। আজ (বুধবার) সকালে সীমানা প্রাচীরের বাইরে ঝুলিয়ে থাকা ধুন্দুল তোলার জন্য গেলে সেখানে পল্লী বৈদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে তিনি মারা যান। কিছুদিন আগেও এখানে বিদ্যুতের তারে আগুন লেগে খুঁটির গোড়া পুড়ে গর্ত হয়ে যায়। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এরপরও কর্ণপাত করেনি। তাদের গাফিলতির কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।’

নারায়ণ করের ছেলে অজয় কর বলেন, ‘আমার বাবা সকাল আটটার দিকে বাড়ি হতে বের হয়। আমি কলেজে চলে আসি। কলেজে থাকা অবস্থায় এই দুর্ঘটনার খবর শুনি। আমি এই হত্যার বিচার দাবি করছি।’

চুয়েটের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত) ড. অধ্যাপক ফারুক-উজ জামান ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, পল্লী বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মৃত্যুটা খুবই দুঃখজনক। যেকোনো জীবনই মূল্যবান। তিনি আমাদের দীর্ঘদিনের কর্মচারী। তার মৃত্যুতে আমরা চুয়েট পরিবার খুবই মর্মাহত।’

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবুল কালাম বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর ঘটনাস্থলে আমাদের কর্মকর্তা গেছেন। চুয়েট কর্মচারী ধুন্দুল তুলতে গিয়ে খুঁটির আর্থিং ধরে টান দিলে তা ছিড়ে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কোনো দায় নেই। তবে, আমরা তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবো।’

চুয়েট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি।’

ইত্তেফাক/এনই/ ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x