ঢাকা সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬
৩৩ °সে

ভাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে ভাইকে পিটিয়ে হত্যা

ভাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে ভাইকে পিটিয়ে হত্যা
চাচাত ভাইদের হাতে নিহত বাচ্চু সেক। ছবিঃ ইত্তেফাক।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে বাচ্চু সেক (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে আপন চাচাত ভাইয়েরা। কাউলিবেড়া ইউনিয়নের শেকপুড়া গ্রামে শুক্রবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। বাচ্চু সেক ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার লাশ ফরিদপুর কোতয়ালী থানা পুলিশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে।

বাচ্চু সেক শেকপুড়া গ্রামের বাদশা সেকের পুত্র। এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানায় নিহতের স্ত্রী তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলার দায়ের করেছেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী সাঈদুর রহমান বলেন, গত মঙ্গলবার জমি নিয়ে বিরোধের কেন্দ্র করে মারামারি সংঘঠিত হয়। সে সময় নিহত বাচ্চু সেক ও তার ভাই ইমারত সেক গুরুতর আহত হন। উভয়কেই ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য বাচ্চুকে প্রথমে ঢাকায় তারপর ফরিদপুরে নেওয়া হয়। শুক্রবার সকালে বাচ্চু সেক ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে মারা যান। এ ব্যাপারে নিহতের ভাই ইমারত ১০ জনকে আসামি করে একটি মারামারির মামলা দায়ের করেছেন। অপর দিকে তার স্ত্রী তাছলিমা বেগম স্বামীর হত্যা মামলার অভিযোগ দিয়েছেন। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিহতের ভাই ইমারত বলেন, ‘বিগত ১৫ বছর আগে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সে সময় আমার চাচা দুলু সেক ও সোনা মিয়া গংরা আমার পিতা বাদশা সেককে পিটিয়ে হত্যা করে। সে সময় একটি ডায়েরি করা হয়েছিল ভাঙ্গা থানায়। এলাকার প্রভাবশালীরা বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিয়ে আমার পিতার হত্যার বিচার করতে দেয়নি। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো আজ। দুলু সেকের ছেলেরা আমার চাচাত ভাই বাবু সেক, খোকন সেকসহ বেশ কয়েকজনে আমার ভাইকে পিটিয়ে মেরে ফেললো। আমি আমার পিতা ও ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার দাবি করছি।’

এদিকে শুক্রবার বিকালে নিহত বাচ্চু সেকের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে কয়েক শত জনতা এক নজর দেখতে ভিড় জমায়। একইসঙ্গে আত্মীয়-স্বজনের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। শুক্রবার রাতেই জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ সাভারে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা, হত্যাকারীর মায়ের আত্মসমর্পণ

এলাকাবাসী এ সময় দাবি তোলে পরিবারটির পিতা-পুত্রকে পরপর পিটিয়ে হত্যা করে শুধু টাকার বিনিময়ে পার পেয়ে যাচ্ছে ঘাতক দুলু সেক ও সোনা মিয়ার পরিবার। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘাতকদের আটক করে শাস্তির ব্যবস্থা করবে এমনটাই প্রত্যাশা করি আমরা।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন