ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ৫ বৈশাখ ১৪২৬
২৯ °সে

সাতক্ষীরায় বেড়িবাঁধে ৩শ কি.মি জুড়ে ভাঙন, আতঙ্ক

সাতক্ষীরায় বেড়িবাঁধে ৩শ কি.মি জুড়ে ভাঙন, আতঙ্ক
আশুশুনি উপজেলায় খোলপেটুয়া নদী সংলগ্ন বেড়িবাঁধ: ইত্তেফাক

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগ-১ ও ২ এর আওতাধীন ৮০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের প্রায় ৩শ’ কিলোমিটার জুড়ে ব্যাপক ভাঙন ও ফাটল দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় জেলার আইলা বিধ্বস্ত আশাশুনি, শ্যামনগর, দেবহাটাসহ ৫ উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

বার বার বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও টনক নড়ছে না পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের। বর্ষা মৌসুমের আগেই সংস্কার করা না হলে জোয়ারের তীব্র স্রোতে জেলার খোলপেটুয়া, কপোতাক্ষ, ইছামতি ও বেতনা নদীর বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বিভাগ-১ ও ২ এর অধীনে ১১টি পোল্ডারে ৮০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ৫০/৬০টি পয়েন্টে ৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে একশ’ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।

আশাশুনি উপজেলার জেলেখালী, দয়ারঘাট, চাকলা, বিছট, কোলা, হাজারাখালী, ঘোলা ত্রিমোহনী, হিজলিয়া, কেয়ারগাতি, চন্ডিতলা ও বুধহাটার তেঁতুলতলা, দেবহাটা উপজেলার সুশীলগাতী, চরকোমরপুর, খারাট, টাউনশ্রীপুর ও ভাতশালা এবং শ্যামনগর উপজেলার পদ্ম পুকুর, গাবুরা, কাশিমাড়ি, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্জ ও রমজাননগর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে এই তিন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক লোক পানিবন্দি হবে। এতে হাজার হাজার বিঘা চিংড়ি ঘের ও ফসলের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাবে। কোটি কোটি টাকার চিংড়ি উত্পাদন ব্যাহত হবে।

আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের দু’পাশ জুড়ে রয়েছে খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদ। প্রতি বছরই এসব নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে ফসল, মাছের ঘের ও ঘরবাড়ি হারিয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বার বার জানিয়েও কোনো লাভ হয় না। জরুরি ভাবে সংস্কার করা না গেলে ঝড় ও বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন ও আইলা বিধ্বস্ত গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ মাসুদুল আলম জানান, তার ইউনিয়ন পুরোটাই খোলপেটুয়া এবং কপোতাক্ষ নদ ঘিরে। তার ইউনিয়নের অন্তত ১০ থেকে ১৫ পয়েন্টে বেড়িবাঁধে ভাঙন রয়েছে। এই মুহূর্তে যদি বেড়িবাঁধ মেরামত করা না হয় তাহলে খোলপেটুয়া নদীর তীরে বসবাসরত মানুষ বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে।

সাতক্ষীরা জেলা ‘নদী বাঁচাও আন্দোলন’ কমিটির নেতা অধ্যক্ষ আশেক-ইলাহী জানান, ‘বর্ষা মৌসুম এলেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন বেড়িবাঁধ জরুরি সংস্কারের নামে সরকারি অর্থ লুটপাট করে থাকে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, তার ডিভিশনে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ কিলোমিটার। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের পাশাপাশি ছোটখাট নদী বা খালগুলো পুনঃখনন করা খুবই জরুরি।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুজ্জামান জানান, তার ডিভিশনে ১০৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন যাবত্ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না আসায় এসব বাঁধ মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ স্থায়ী কর্মচারী নেই, রোগীদের সেবা দিচ্ছে বহিরাগতরা

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে পাঠানোর পর পাওয়া গেছে মাত্র ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। ফলে এই টাকায় কোনো রকমে সংস্কার কাজ হয়েছে। এবারও আনুমানিক ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কার কাজ শুরু হবে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন