ঢাকা সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬
২৯ °সে


‘মাইনসে কয় পুলিশ যাকে পাইবে তাকে ধরি নিয়া যাইবে’

‘মাইনসে কয় পুলিশ যাকে পাইবে তাকে ধরি নিয়া যাইবে’
ফাইল ছবি।

কুড়িগ্রামের রাজীবপুর থানা মোড় চত্বরে এক মোটরসাইকেল মেকানিকের দোকানে হামলা এবং সাদা পোশাকে থাকা এক পুলিশ সদস্যকে মেরে রক্তাক্ত করার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতসহ ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত ওই মামলায় পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ প্রতি রাতে উপজেলার করাতি পাড়া গ্রামে অভিযান চালাচ্ছে। ভয়ে নিরপরাধ মানুষ গুলো।

পুলিশের এই অভিযানে উপজেলার করাতিপাড়া ও করাতিমন্ডল পাড়া দুই গ্রামের চারশ পরিবারের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। ওই দুই গ্রাম এখন পুরুষ শূন্য। বৃহস্পতিবার থেকে গত পাঁচদিন ধরে দুই গ্রামের পুরুষরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। মামলায় অভিযুক্ত ছাড়া নিরপরাধ মানুষও পুলিশের ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছে না।

সরেজমিনে ওই দুই গ্রামে গিয়ে কোনো পুরুষ মানুষ দেখা যায়নি। করাতিপাড়া গ্রামের আইয়ুব আলীর স্ত্রী ছানোয়ারা বেগম জানান, তার স্বামী দিনমজুর। তবুও তিনি ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ছেলে এইচএসসি পরীক্ষা সেও ভয়ে বাড়িতে থাকছেনা। একই গ্রামের মন্তাজ আলীর স্ত্রী লাল বানু বলেন, ‘মাইনেস কয় পুলিশ যাক পাবি তাক ধরি নিয়ে যাবি’

রাজীবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জেলা পরিষদের সদস্য আজিম উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, যারা অভিযুক্ত তাদেরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করুক। তা না করে নিরীহদের পুলিশ হয়রানি করছে। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ৫০ জনের মতো সেখানে দুই গ্রামের প্রায় চারশ পুরুষ মানুষ বাড়িতে থাকতে পারছেন না। প্রতিরাতে পুলিশ আসামি ধরার নামে নিরীহ মানুষের বাড়িতেও অভিযান চালাচ্ছে। এটা কেন হবে।’

আরও পড়ুন: পা কেটে কোথায় রেখেছে ‘ট্রেস’ করতে পারছেনা পুলিশ

নিরীহ মানুষকে হয়রানি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজীবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘কোনো নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হয়নি। মামলায় যারা অভিযুক্ত এবং যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে। এখন যারা জড়িত নয় তারা যদি পুলিশের ভয়ে বাড়ি ছাড়ে তাহলে আমরা কী করব।’

উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে রাজীবপুর থানা মোড় চত্বরে মোটরসাইকেল মেকার হযরত আলীর দোকানে হামলা চালায় করাতিপাড়া গ্রামের মানুষ। ওই সময় সাদা পোশাকে উপস্থিত থাকা শফিক আহমেদ নামের এক পুলিশ সদস্য বাধা দিলে তাকে বেধড়ক পেটানো হয়। পরে থানা থেকে আরও পুলিশ উপস্থিত হলে সংঘর্ষ বাধে। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল মেকার হযরত আলী ও পুলিশ বাদি হয়ে দুটি মামলা দায়ের করে ৫০ জনের মতো আসামি করা হয়। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

ইত্তেফাক/অনি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন