ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
২৬ °সে


দুর্নীতি মামলায় পুলিশ সার্জেন্ট ২০ বছর পর কারাগারে

দুর্নীতি মামলায় পুলিশ সার্জেন্ট ২০ বছর পর কারাগারে
ফাইল ছবি

নড়াইল শহরে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে মোটরসাইকেল চালক শাহিনুর রহমান আশ্রয় নেন নড়াইলে ট্রাফিক বিভাগের কর্তব্যরত সার্জেন্ট রফিকুল ইসলামের কাছে। তাৎক্ষণিক তিনি ছিনতাইকারীর হাত থেকে রক্ষা পেলেও ট্রাফিক সার্জেন্টের খপ্পরে পড়েন। কাগজপত্র যাচাইয়ের কথা বলে মোটরসাইকেল কব্জায় নেন সার্জেন্ট। কিন্তু হাল ছাড়তে নারাজ মোটরসাইকেল মালিক। আদালতে মামলা করেন মোটরসাইকেল ফিরে পেতে। সেই মামলার পলাতক আসামি প্রাক্তন সার্জেন্ট রফিকুল ইসলাম বুধবার যশোর স্পেশাল জজ আদালতে (জেলা জজ) আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর আপত্তিতে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আসামি রফিকুল ইসলাম নড়াইল ট্রাফিক বিভাগের সাবেক সার্জেন্ট। তিনি খুলনা শহরের ১০ নম্বর তালতলা মসজিদ রোডের শহিদুল ইসলামের ছেলে। বাদী শাহিনুর রহমান যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার মাহমুদ আলীপুর গ্রামের আবদুল গফুর মোল্লার ছেলে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের পিপি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আসামি পুলিশের সাবেক সার্জেন্ট রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। বুধবার স্পেশাল জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আসামি রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তার কাছে আশ্রয় চেয়ে বাদী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এজন্য তার জামিনে ঘোর আপত্তি জানানো হয়। আদালত আপত্তির বিষয়টি আমলে নিয়ে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরো পড়ুন: ২৭ বছর পর কুমায় থেকে জেগে উঠলেন নারী

আদালত সূত্রে জানা যায়, বাঘারপাড়ার মাহমুদ আলীপুর গ্রামের আবদুল গফুরের ছেলে শাহিনুর রহমান ১৯৯৮ সালের ৫ নভেম্বর ৫০ টাকা স্ট্যাম্পে এফিডেভিটের মাধ্যমে একই উপজেলার কবির ভিটা গ্রামের কামরুল ইসলামের কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা দামে একটি মোটরসাইকেল ক্রয় করেন। সেই মোটরসাইকেলে ১৯৯৯ সালের ১ আগস্ট নড়াইল শহরে বেড়াতে যান শাহিনুর রহমান। এ সময় ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে আশ্রয় নেন কর্তব্যরত পুলিশ সার্জেন্ট রফিকুল ইসলামের কাছে। তখন সার্জেন্ট রফিকুল ইসলাম মোটরসাইকেল চাবি নিয়ে নেন। তিনি মালিককে কাগজপত্র দেখাতে বলেন। সঙ্গে কাগজপত্র না থাকায় দেখাতে পারেননি। তিনি মোটরসাইকেল রেখে দিয়ে, কাগজপত্র দেখিয়ে নিয়ে যেতে বলেন।

পরবর্তীতে কাগজপত্র নিয়ে গেলেও সার্জেন্ট রফিকুল ইসলাম মোটরসাইকেল ফিরিয়ে দেননি। মালিক শাহিনুর রহমান মোটরসাইকেল ফিরে পেতে নড়াইল প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন (যার নম্বর সিআর ৫৬২/৯৯)। আদালত মামলাটি তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোকে তদন্তের নির্দেশ দেন। ২০০৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জেলা দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার নির্দেশে তদন্তভার পান পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তফা।

আরো পড়ুন: বিএনপি নেতা শাহীন হত্যা : প্রধান আসামি আমিনুল ৫ দিনের রিমান্ডে

এদিকে মামলা চলাকালে নড়াইল শহর থেকে সেই মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানা পুলিশ। থানা থেকে বাদী মোটরসাইকেলটি ফিরেও পান। পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত হলে দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক আমিনুর রহমান তদন্তের দায়িত্ব পান। তিনি ২০১৩ সালের ২৬ অক্টোবর আদালতে চার্জশীট দেন।

তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, সার্জেন্ট রফিকুল ইসলাম মোটরসাইকেলটি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

ইত্তেফাক/বিএএফ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন