ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬
৩৩ °সে


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ১৫ হাজার কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ১৫ হাজার কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার ব্যয় সম্বলিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একক প্রকল্প হিসেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি ১৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরে প্রধানমন্ত্রী ও এনইসির চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এনইসি সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জ্বালানি তেলের পরিবর্তে এখন পরিবেশবান্ধব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের দিকে যাচ্ছে দেশ। বাংলাদেশে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎস্বল্পতা যেমন দূর হবে, তেমনি বিদ্যুতের উৎপাদন খরচও অনেক কমে আসবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে ৬০ বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এর পেছনে বার্ষিক খরচ হবে মাত্র এক হাজার কোটি টাকা। পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এসময় আশা পোষণ করে বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে জাতি হিসেবে আমরা বিশ্ব পরিমণ্ডলে দশ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ ব্যয়ের এই প্রকল্পে দু’টি ইউনিটের মাধ্যমে ২ হাজার ৪শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের ৬ কোটি মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল পর্বের কাজ বাস্তবায়নে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে রাশিয়া ৪ শতাংশ সুদহারে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে। ১০ বছরের রেয়াতকালসহ ২০ বছর মেয়াদে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন রসাটমের প্রকৌশল বিভাগ এটমস্ত্রয়এক্সপোর্ট (এএসই) জেনারেল কন্ট্রাক্টর হিসেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব লাভ করে। প্রকল্পটির প্রতিটি ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন দু’টি ভিভিইআর ১২০০ রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হবে। রুশ ডিজাইনের ৩+ প্রজন্মের এই রিয়্যাক্টরটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল আর্ন্তর্জাতিক চাহিদা মিটাতে সক্ষম।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের কাজ ২০১৬ হতে শুরু হয়ে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক ড. সৌকত আকবর নির্মাণ কাজ এখন পর্যন্ত সিডিউল অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

ইত্তেফাক/আরকেজি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ জুন, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন