ঢাকা সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬
২৮ °সে


মির্জাপুরে কৃষকের কাছ থেকে ধান-চাল ক্রয় করছে খাদ্য বিভাগ

মির্জাপুরে কৃষকের কাছ থেকে ধান-চাল ক্রয় করছে খাদ্য বিভাগ
মির্জাপুরে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান-চাল ক্রয় করছে খাদ্য বিভাগ- ইত্তেফাক

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারি খাদ্য গুদামে ৩৬ টাকা কেজি দরে চাল ও ২৬ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রি করতে পেরে কৃষক এবং মিল মালিকরা স্বস্তির কথা জানিয়েছেন। প্রতি মন চাল এক হাজার ৪৪০ টাকা এবং প্রতি মন ধান এক হাজার চল্লিশ টাকায় বিক্রি করতে পেরে কৃষক ও রাইস মিল মালিকরা বেশ খুঁশি। এলাকার প্রান্তিক কৃষক ও মিল মালিকদের নিকট থেকে নায্য মুল্যে সরাসরি ধান এবং চাল ক্রয় করছে খাদ্য বিভাগ।

শুক্রবার মির্জাপুর উপজেলা খাদ্য গুদামে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রান্তিক কৃষক ও মিল মালিকদের নিকট থেকে ধান ও চাল ক্রয় করছে খাদ্য বিভাগ।

মির্জাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিভাগ ও সরকারি খাদ্য গুদাম অফিস সুত্র জানায়, চলতি মৌসুমে মির্জাপুর উপজেলায় ৬৪১ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধারা হয়েছে। গত ২০ মে থেকে ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে। সংগ্রহ চলবে আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত । সরকারি নির্দেশনায় ২৬ টাকা কেজি ধরে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। এক মন ধান ১০৪০ টাকায় ক্রয় করা হচ্ছে। হাট বাজারে এক মন ধান বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০শ টাকায়। এখানে কৃষকরা ধান বেশী দামে বিক্রি করতে পারছেন। চলতি মৌসুমে চাল সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে এক হাজার ৪৮২ মেট্রিক টন। প্রতি কেজি চাল করা হচ্ছে ৩৬ টাকা দরে। ধান ও চাল ক্রয়ের জন্য বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। মাইকিং করার পর কৃষকরা আগ্রহ নিয়ে ধান খাদ্য গুদামে বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন।

আরও পড়ুন: রাণীনগরে কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান কিনলেন নির্বাহী কর্মকর্তা

এদিকে উপজেলা খাদ্য বিভাগ জানায়, মহেড়া ইউনিয়নে ৩৪ মেট্রিক টন, জামুর্কি ইউনিয়নে ৪০ মেট্রিক টন, ফতেপুর ইউনিয়নে ৪৮ মেট্রিক টন, বানাইল ইউনিয়নে ৫৬ মেট্রিক টন, আনাইতারা ইউনিয়নে ৪৮ মেট্রিক টন, ওয়ার্শি ইউনিয়নে ৫৩ মেট্রিক টন, ভাদগ্রাম ইউনিয়নে ৫০ মেট্রিক টন, বহুরিয়া ইউনিয়নে ৪২ মেট্রিক টন, গোড়াই ইউনিয়নে ৪৩ মেট্রিক টন, আজগানা ইউনিয়নে ৪৯ মেট্রিক টন, তরফপুর ইউনিয়নে ৪৬ মেট্রিক টন, বাঁশতৈল ইউনিয়নে ৪৯ মেট্রিক টন, ভাওড়া ইউনিয়নে ২৯ মেট্রিক টন, লতিফপুর ইউনিয়নে ৪১ মেট্রিক টন এবং পৌরসভায় ১২ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হচ্ছে। সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে এ বছর মির্জাপুর উপজেলায় ধান ও চাল সরবরাহের জন্য সরকারি খাদ্য গুদামের সঙ্গে লাইসেন্সধারী ৭ টি রাইচ মিল মালিকদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ইতিমধ্যে মিলগুলো ধান ও চাল সরবরাহ করছে। মিলগুলো হচ্ছে মেসার্স বিসমিল্লাহ রাইচ মিল, থ্রি ব্রাদার্স রাইস মিল, মেসার্স সুব্রত সাহা অটো রাইস মিল, মেসার্স একতা অটো রাইস মিল, মেসার্স ইন্নছ রাইস মিল, মেসার্স কাজী রাইস মিল ও মেসার্স হেলাল রাইস মিল।

উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. আলী আজমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এই দুই কর্মকর্তা বলেন, চলতি মৌসুমে মির্জাপুরে সরকারি নির্দেশনায় ও নিয়মানুযায়ী সুষ্ঠু ভাবে বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক কৃষক ও বিভিন্ন মিল মালিকদের নিকট থেকে সরাসরি নায্য মুল্যে ধান ও চাল সংগ্রহ(ক্রয় করা) হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার খাদ্য অধিদপ্তরে পরিচালক (প্রশাসন) পরিমল চন্দ্র সরকার, পরিচালক (সংগ্রহ) মো. জুলফিকার রহমান এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম মির্জাপুরে সরকারি খাদ্য গুদামসহ কয়েকটি রাইচ মিল পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

ইত্তেফাক/এমআরএম

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন