মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যা পর বাবার আত্মহত্যা

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ১৮:০০ | অনলাইন সংস্করণ

  পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদদাতা

ছবি: সংগৃহীত

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় পেট্রল ঢেলে ঘরে আগুন দিয়ে সৎ মেয়ে ও তার মাকে পুরিয়ে হত্যা চেষ্টা করে বেল্লাল নামের এক যুবক। এতে ঘটনাস্থলেই মেয়ে কারিমার (১০) মৃত হয়। স্ত্রী সাজেনুর বেগম (৩০) গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। পরে বেল্লাল বাড়ি থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে গিয়ে একই ইউনিয়নের পূর্ব হাতেমপুর এলাকার ছৈলাতলা গ্রামে খালের পারের একটি আম গাছের সাথে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। বুধবার (১২ জুন) দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার সদর পাথরঘাটা ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সাজেনুরের চাচাতো ভাই মো. ইব্রাহিম জানান, বেল্লাল হোসেন বাড়ি বরগুনার তালতলী উপজেলার ছকিনা এলাকায়। প্রায় দেড় বছর আগে সাজেনুরের সঙ্গে বেল্লালের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ সৃষ্টি চলতে থাকে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায় একাধিকবার শালিসও হয়েছে। শালিস ব্যবস্থা মাঝে প্রায় সময়ই স্বামী বেল্লাল হোসেন মা-মেয়েকে আগুনে পুড়ে মারার হুমকি দিয়ে আসছিল। এ ঘটনার পরে সকাল ১০টার দিকে পাথরঘাটা থানা পুলিশ এক অজ্ঞাত পরিচয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।

সাজেনুরের ফুফাতো বোন ফাতেমা বেগম বলেন, আমার বোন সাজেনুর অসুস্থ অবস্থায় বলেছেন ঘটনার সময় রাতে ঘর থেকে বাহিরে যাওয়ার কথা বলে বের হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন জ্বলতে শুরু করে। এ সময় সাজেনুর ও তার মেয়ে কারিমা আক্তার ঘর থেকে বের হতে চাইলে মা-মেয়েকে রামদা দিয়ে ধাওয়া করলে ঘর থেকে আর মা-মেয়ে বের হতে পারেনাই। এতে ঘটনাস্থলেই ঘরের মধ্যে আগুনে পুড়ে মেয়ে কারিমা মারা যান। আর মা সাজেনুর শরীরের ৮০ ভাগই পুড়ে যায়।

আরও পড়ুন: ১০০ টাকার কথা বললে ২৭ টাকা ট্যাক্স

পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘সাজেনুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার শরীরের ৮০ ভাগই পুড়ে গেছে। সাজেনুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হানিফ শিকদার বলেন, ‘এ ঘটনায় সৎ মেয়ে ও বাবার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সাজেনুরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।’

ইত্তেফাক/বিএএফ