ঢাকা শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৩ °সে


​সেতুর অভাবে দুর্ভোগে গৌরীপুর-ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১৫ গ্রামের মানুষ

​সেতুর অভাবে দুর্ভোগে গৌরীপুর-ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১৫ গ্রামের মানুষ
বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে পড়ায় নৌকা দিয়ে নদী পার হচ্ছেন এলাকাবাসী। ছবি: ইত্তেফাক

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের টেঙ্গাপাড়া গ্রামে ডয়কা নদীর ওপর ব্রিজ না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গৌরীপুর ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১৫ গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষকে। এলাকাবাসীর চাঁদায় নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকোয় দূর্ভোগ আংশিক কমলেও আবার সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় দুই উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ আবার দূর্ভোগের সম্মুখীন হয়েছেন। নতুন করে সাঁকোটি নির্মিত না হওয়ায় প্রতিদিন দুই উপজেলার শত শত মানুষ ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পারাপার হচ্ছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ডয়কা নদী গৌরীপুর ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সীমানা ভাগ করেছে। নদীর পূর্ব পাড়ে গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের টেঙ্গাপাড়া গ্রাম। পশ্চিমপাড়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের মাইজহাটি গ্রাম। নদীতে সেতু না থাকায় দুই উপজেলার টেঙ্গাপাড়া, পল্টিপাড়া, সানিয়াপাড়া, শাহবাজপুর, ধোপাজাঙ্গালিয়া, বড়ইবাড়ি, মাসকান্দা, মাইজহাটি, জিগাতলা, সোহাগী, মমরুজপুরসহ মোট ১৫ গ্রামের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় নদী পার হতো। ২০১৭ সালে সহনাটি ইউনিয়নের গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে নদীর ওপর ৩শ ৩০ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে। এরপর সহনাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান সাঁকোটি চলাচলের উপযোগী করার জন্য টেঙ্গাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে নদীর পাড় পর্যন্ত মাটি কেটে এক কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দেন। কিন্তু দুই বছরে রোদ-বৃষ্টিতে বাঁশের সাঁকোটি নষ্ট হয়ে চলতি বছরের শুরুতেই সাঁকোটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যায়।

টেঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এখলাস উদ্দিন জানান, 'বর্ষাকালে নদীতে নৌকা চলাচল বন্ধ থাকে। তখন গ্রামবাসীকে বিকল্প পথে ১২ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে নদী পার হতে হয়। সাঁকোটি নতুন করে তৈরি করতে প্রায় ২ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু আমরা নদীতে বাঁশের সাঁকো চাইনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি পাকা সেতু চাই।'

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে ডয়কা নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোর কাঠামো অত্যন্ত দুর্বল হয়ে গেছে। ভেঙে পড়ছে সাঁকোর খুঁটি ও পাঠাতনের বাঁশ। গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীরা কাঁদা পানি মাড়িয়ে ডিঙি নৌকায় নদী পার হচ্ছে। ঈশ্বরগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কায়েস আহমেদ বলেন, 'সহনাটি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন ডিঙি নৌকায় নদী পার হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ ডিগ্রী (অনার্স) কলেজ, সোহাগী উচ্চ বিদ্যালয় ও স্বপ্নসিড়ি গার্লস স্কুলে এসে পড়াশোনা করে। কিন্তু নদীতে সেতু না থাকা ও বর্ষাকালে নৌকা চলাচল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।'

আরও পড়ুন: তনুশ্রীকে হয়রানির অভিযোগ থেকে রেহাই পেলেন নানা পাটেকার

সহনাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, 'বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় দুই উপজেলার ১৫ গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় ডয়কা নদী পার হচ্ছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে সরজমিনে এনে সেতু না থাকার দুর্ভোগের বিষয়টি দেখিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ উদ্যোগ নেয়নি।'

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবু সালেহ মো. ওয়াহিদুল হক বলেন, 'ডয়কা নদীর ওপর সেতু না থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সেতু নির্মাণের সার্বিক বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।'

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন