নিম্নমানের চাল না নেওয়ায় গুদাম কর্মকর্তাকে হুমকি

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৯, ২৩:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

  মিঠাপুকুর (রংপুর) সংবাদদাতা

নিম্নমানের চাল সরবরাহ। ছবি ইত্তেফাক

রংপুরের মিঠাপুকুরে নিম্নমানের চাল না নেওয়ায় শঠিবাড়ী সরকারি খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ফারহানা সুলতানাকে হুমকি দিয়েছেন মিল-চাতাল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে জেলা খাদ্য দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন। ওই ব্যবসায়ির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শঠিবাড়ী খাদ্য গুদাম কার্যালয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শঠিবাড়ী খাদ্য গুদামের তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ী মেসার্স নুরুল অটোমেটিক চাউল কলের স্বত্বাধীকারী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম। চলতি মৌসুমে তিনি ৮শ মেট্রিকটন চাল সরকারের কাছে বিক্রয়ের চাহিদাপত্র পেয়েছেন।

ইতোমধ্যে, প্রায় একশ’ মেট্রিকটন চাল সরবরাহ করেছেন তিনি। গত মঙ্গলবার বিকেলে তিনি একটি ট্রাকে প্রায় ২১ মেট্রিক টন চাল নিয়ে খাদ্য গুদামে যান। চাল পরীক্ষা করে নিম্নমানের হওয়ায় খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ফারহানা সুলতানা সেগুলো নিতে অস্বীকৃতি জানায়। 

এতে, ক্ষিপ্ত হয়ে কর্মকর্তাকে চালগুলো নেওয়ার জন্য চাপ প্রদান করেন রবিউল ইসলাম। পরে, গুদাম কর্মকর্তাকে হুমকি ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে নির্যাতন করেন।

এ ঘটনায় খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। বুধবার বিকেলে খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) জাকির হোসেন সরকার, খাদ্য পরিদর্শক (কারিগরি) মাসুদুর রহমান ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খাদেমুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চালের নমুনা সংগ্রহ করেছেন।

পরে, শঠিবাড়ী খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ফারহানা সুলতানা জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মিঠাপুকুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তিনি বলেন, প্রভাব খাটিয়ে নিম্নমানের চাল নিয়ে এসে ঝামেলা সৃষ্টি করেন বরিউল ইসলাম। চালগুলো নিতে অস্বীকৃতি জানালে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন তিনি। বিষয়টি আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে ট্রাকে করে নিম্নমানের চাল নিয়ে এসে আমাকে চাপ প্রদান করেন। আমি চালগুলো নিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে প্রকাশ্যে হুমকি ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন।

মিঠাপুকুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খাদেমুল ইসলাম বলেন, নিম্নমানের চাল গুদামে না নেওয়াকে কেন্দ্র করে গুদাম কর্মকর্তাকে হুমকি ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছেন ব্যবসায়িক রবিউল ইসলাম। এ ঘটনায় তদন্ত শেষে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) জাকির হোসেন সরকার বলেন, আমরা চালের নমুনা সংগ্রহ করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মিঠাপুকুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, সাধারণ ডায়েরি দায়েরের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযুক্ত মিল-চাতাল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গুদামে দেওয়ার জন্য আমি এক ট্রাক চাল নিয়ে যাই। কর্মকর্তা নানা অজুহাতে চালগুলো নিতে অস্বীকৃতি জানায়। শুনেছি আমার বিরুদ্ধে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে অভিযোগ ও থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

ইত্তেফাক/আরকেজি