ঢাকা শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬
২৮ °সে


ফুলবাড়িতে অবাধে বালু লুট, হুমকিতে ফসলি জমি-নদীর পাড়

ফুলবাড়িতে অবাধে বালু লুট, হুমকিতে ফসলি জমি-নদীর পাড়
ফুলবাড়িতে অবাধে বালু লুট। ছবি: ইত্তেফাক

বেপোরায়া হয়ে ওঠেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে বালুদস্যুরা। স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতার কারণে ছোট যমুনা নদীর অন্তত ১০টি পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে বালু লুটের মহোৎসবের মাধ্যমে শত শত ট্রাক্টর দিয়ে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছে তারা। ফলে নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ও রাস্তাঘাটসহ কয়েকশ একর আবাদি জমি হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট যমুনা নদীর দৌলতপুর হরহরিয়া পয়েন্টের আশে পাশের বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করছেন এলাকার মুরাদ হোসেন, বেনজির ইসলাম ডিটু, জাকির হোসেন, শামীম হাসান, বাবলু মিয়া, তোজাম্মেল হাজীর ছেলে সারোয়ার হোসেন, দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ মন্ডলের ভাই মতিয়ার রহমানসহ অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন। বিভিন্ন পয়েন্টে যে যার মতো করে বালু উত্তোলন এবং ট্রাক্টর দিয়ে পরিবহণের কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙ্গে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে নদীর পাড় ও পাড় সংলগ্ন কয়েকশ একর ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন, 'নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দৃশ্য দেখলে মাথা নষ্ট হয়ে যায়। স্থানীয় ভূমিদস্যুরা দলীয় পরিচয়ে নদীর বিভিন্ন স্থানে ট্রাক্টর লাগিয়ে নিজ খেয়ালখুশি মতো বালু উত্তোলন করছে। নদীতে যখন বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলে, তখন ইউএনওকে বিষয়টি জানানো হলেও কোন কাজ হয় নি। ফলে বালু লুট থামানো যাচ্ছে না। নদীর তলদেশ থেকে হাজার হাজার ট্রাক্টর বালু উত্তোলনের ফলে ওইসব এলাকা ভূমি ধসের ঝুঁকিতে পড়েছে।'

নদীর মহদিপুর ও মহদিপুর খেয়াঘাট থেকে বালু উত্তোলনকারী মুরাদ হোসেন বলেন, মুক্তারপুর গ্রামের জনৈক ব্যক্তির নদীর পাড়ের পৈত্রিক জমি লিজ নিয়ে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছেন। একই এলাকার অপর বালু উত্তোলনকারী বেনজির হোসেন ডিটু বলেন, 'পারিবারিক সূত্রে আওয়ামী লীগ করি। চাকরি নেই, কি করে খাবো। চুরি-ডাকাতি তো করছি না, বালু তুলে ব্যবসা করছি।' এভাবে দৌলতপুর হরহরিয়া এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই অন্তত পাঁচ ট্রাক্টর বালু নদীর পাড়ে তুলে রেখে বিক্রি করছে। একইভাবে তোজাম্মেল হাজীর ছেলেও চার থেকে পাঁচশ ট্রাক্টর বালু তুলে রেখেছে বিক্রির জন্য। মুরাদ হোসেনও তার মতোই মেশিন দিয়ে নদীর পাড়ে বালু তুলে রেখেছে বিক্রির জন্য। এছাড়াও সরকারিভাবে যেসব স্থানে বালু তোলার কথা ইজারাদাররা সেইসব স্থানে বালু না তুলে তাদের ইচ্ছেমত বিভিন্ন জায়গা থেকে বালু তুলছে।

আরও পড়ুন: ৯ বছর পর পদ্মশ্রী পুরস্কার ফেরত দিতে চাইলেন সাইফ

দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ মন্ডল বলেন, 'নদী থেকে তার ভাইয়ের বালু তোলা বন্ধ করে দিয়েছেন।'

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালুদস্যুরা সরকারি দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতা হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এলাকার কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। আর প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, 'নদীর কোনও এলাকা থেকেই যেন কোন প্রকার অবৈধভাবে বালু কেউ তুলতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তারা দেখভাল করছেন।'

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন