ঢাকা শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬
২৯ °সে


রাউজানে ডাবুয়া খাল ও সর্তা খালে ভাঙন, জনদুর্ভোগ চরমে

রাউজানে ডাবুয়া খাল ও সর্তা খালে ভাঙন, জনদুর্ভোগ চরমে
রাউজানে বন্যার পানি রাস্তার ওপর দিয়ে বইছে। ছবি: ইত্তেফাক

রাউজানে অতিবর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে ডাবুয়া খাল ও সর্তা খালের বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে জনবসতি। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। এই ভাঙণের ফলে উপজেলার নোয়াজিসপুর, চিকদাইর, ডাবুয়া ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার পশ্চিম সুলতানপুরে কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এসব এলাকায় পানির তীব্র স্রোতে তালিয়ে গেছে আমনের বীজতলাসহ নানা ফসলি ক্ষেত, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ, খামারের মুরগি, ভেঙ্গেছে রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর, উপড়ে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি, শোবার ঘর ও রান্না ঘরে প্রবেশ করেছে পানি। বন্ধ হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষাকার্যক্রম।

এছাড়া টানা একসপ্তাহ ধরে বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের প্রভাবে উপজেলার সদরের ঢেউয়া হাজিপাড়া, মোহাম্মদপুর , পাহাড়তলী ইউনিয়নের খৈয়াখালী, দেওয়ানপুর ,বাগোয়ান ইউনিয়নের কর্ণফুলীতীরবর্তী কিছু এলাকা, নোয়াপাড়া, উকিরচর, পশ্চিম গুজরা ও বিনাজুরি ইউনিয়নের হালদানদী তীরবর্তী কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের পশ্চিম সুলতানপুর ডাবুয়া খালের প্রায় ৬০-৭০ ফুট বাঁধ ভেঙে পশ্চিমদিকে তীব্র স্রোতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে রামকৃঞ্চ পল্লীসহ আশেপাশের এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এই পানির স্রোতে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়ক-চিকদাইর পাটানপাড়া সংযোগ সড়কের সত্যের দোকান সংলগ্ন স্থানসহ বেশকিছু স্থানে ভেঙে গেছে। সড়কের ওপর দিয়ে এক থেকে দেড় ফুট উঁচুতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

দেখা গেছে সত্যের দোকনের সন্নিকটে সড়কের ভাঙা স্থানে কয়েকজন কিশোর বাঁশ বেঁধে দিয়ে মানুষ পারাপারে সহায়তা করছে। এই বাঁশের ওপর দিয়ে নারী-শিশু ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন।

ঐখানে কথা হয় স্থানীয় পথচারী নান্টু শীল, বাপ্পু দাশ, মো. আইয়ুব খান ও রতন দের সঙ্গে। তারা জানান, চারদিন আগে ডাবুয়া খালের ভাঙনে এই এলাকাটি প্লাবিত হয়েছে। এইখানে গত বুধবার একটি মেয়ে স্রোতের টানে রাস্তা দিয়ে ভেসে যাচ্ছিল। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করেছিল। স্রোতে আমনের বীজতলার মাটিসহ চলে গেছে। পৌরসভা থেকে এই পর্যন্ত আমাদের কোন সহায়তা করেনি। এই ডাবুয়া খালের বাঁধ নির্মাণে স্থানীয় এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর সুদৃষ্টি কামনা করেন।

রামকৃঞ্চপল্লীর প্রায় অনেকের রান্নাঘর ও শয়নক্ষ পানি বাড়তে দেখা যায়। সেখানে কথা হয় গৃহিণী সেলী চৌধুরী, রিতা চৌধুরী, কৃঞ্চ চৌধুরীর সঙ্গে। তারা জানান, রান্না ঘরের চুলায় আগুন জ্বালানো হচ্ছে না তিনদিন ধরে। অনেক কষ্ট করে খাবার রান্না করা হচ্ছে। ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারছেনা। চলাফেরায় বেশ কষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর শওকত হোসেন বলেন, ‘ডাবুয়া খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা আর পাহাড়ি ঢলের বেগে খালের পাড় ভেঙ্গে যাচ্ছে। খালটি বিনাজুরি পর্যন্ত খনন করতে হবে। ভাঙ্গা স্থানটি আগে একবার ভেঙ্গেছিল। এমপি মহোদয়ের সহযোগীতার বাঁধ মেরামত করছিলাম। সেটা পুনরায় ভেঙ্গে গেছে। ইউএনও সহ বন্যা দূর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবার বিকরণ করেছি। পৌরসভা হতে এই পর্যন্ত কোন প্রকারের বরাদ্ধ মেয়র আমাকে দেয় নি।’

এদিকে ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের তারাচরণ ও শ্যামাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ে সন্নিকটে ডাবুয়া খালের প্রায় ৩৫-৪০ ফুট বাঁধ ভেঙ্গে কান্দিপাড়া এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান স্থানীয় মোহাম্মদ ইরফান সোলাইমান।

তিনি আরও জানান, পানির তীব্র স্রোতে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভেঙে গেছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়েছে। দুইদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। প্রায় এক হাজার পরিবার পানিবন্দি।

নোয়াজিসপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মিলন মাস্টারের ঘাটায় সর্তাখালের প্রায় ৩০০ ফুট মত ভেঙ্গে নদিমপুর ও উত্তর ফতেহ নগর এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার্দি সিকদার দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি বন্যাদুর্গত এলাকায় আছি। আমাদের এমপি প্রতিনিয়ত বন্যার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তদারিক করছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি টিম ভাঙ্গনস্থল পরিদর্শন করেন।’

আরও পড়ুন: নবীগঞ্জে বিপদসীমার ওপরে কুশিয়ারার পানি

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এহছান মুরাদ দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘বন্যাদুর্গতদের মাঝে ১০ মেট্রিক টন চাল, ডালসহ শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আমি বন্যা দূর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করছি। বন্যার এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন