ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০১৯, ১৭:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

  ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ফাইল ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক দু'টি হত্যা মামলায় সোমবার ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শফিউল আজম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা এলাকার মৃত আওলাদ মিয়ার ছেলে মহররম আলী (২৮), থলিয়ারা এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে মো. আলমগীর (২৮), বিজয়নগর উপজেলার বাগদিয়া এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে আব্দুল কাদির (৪৮), ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের পশ্চিম মেড্ডা এলাকার সোনা মিয়ার ছেলে মোমেন প্রকাশ মোমিন (২৫), আব্দুর রহমানের ছেলে সুমন (২৫) ও সহিদুল হকের ছেলে ফাহাদ মিয়া (২২)।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২১ এপ্রিল সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ছতরপুর গ্রামের রফিক চৌধুরীর ছেলে সোহরাব চৌধুরী বাড়ি থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর আর কোনো খোঁজ মিলেনি। এ ঘটনায় তার চাচাতো ভাই সাচ্চু চৌধুরী বিজয়নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর কিছুদিন পর স্থানীয় বুল্লা-টানপাড়া সড়কের একটি সেতুর নিচ থেকে সোহরাবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর নিহত সোহরাবের মুঠোফোন ট্র্যাকের মাধ্যমে আসামি মহররম আলীকে শনাক্ত করে আটকের পর তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে আলমগীর ও কাদিরের নাম জানান।

আরো পড়ুন: নদ-নদীর পানি ৬৮টি পয়েন্টে বৃদ্ধি

আদালত সূত্রে আরও জানা গেছে, মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২০১১ সালের ২৯ জুন বিকেলে জেলা শহরের পশ্চিম মেড্ডা এলাকার জালাল মিয়ার ছেলে প্রবাসী তুষার মিয়াকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। এ নিহতের মামা সাজ্জাদ মাহমুদ বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আদালত আসামি মোমেন, সুমন (২৫) ও ফাহাদ মিয়কে (২২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি.পি) এস এম ইউসুফ দুই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের জানান, বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিজ্ঞ আদালত এই রায় দিয়েছেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। বাদী পক্ষ ন্যায় বিচার পেয়েছে। তবে রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা।

ইত্তেফাক/এমআই