ঢাকা বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
২৯ °সে


গাইবান্ধায় বন্যা অবস্থার অবনতি

পানিবন্দী আড়াই লাখ মানুষ
গাইবান্ধায় বন্যা অবস্থার অবনতি
বন্যার পানিতে বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। ছবি: ইত্তেফাক

দফায় দফায় ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গাইবান্ধার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্রের পানির তোড়ে সোমবার আরও তিনটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। এতে ৩১টি গ্রাম ও ওইসব এলাকার রাস্তাঘাট এবং ফসল নতুন করে পানিতে ডুবে গেছে। ফলে জেলার গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের আড়াই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

বন্যার্তরা বিভিন্ন বাঁধ, আশ্রয় কেন্দ্র, স্কুল ও মসজিদ মাদ্রাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ আশ্রয়ের সন্ধানে নৌকায় মালামাল নিয়ে নিরাপদ এলাকার দিকে রওনা হয়েছেন। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটের সঙ্গে খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে। গবাদি পশু পাখি নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন বন্যার্ত মানুষ। এদিকে বন্যার পানিতে এক হাজার ২৪৬ হেক্টর জমির ফসল ডুবে গেছে। এছাড়া ২৮ হাজার ২৩০টি ঘরবাড়ি, ৯২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, চার কিলোমিটার বাঁধ ও ছয়টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবন ও মাঠে বন্যার পানি উঠায় ১৫৫টি বিদ্যালয়ের পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ৫টি বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সকালে গাইবান্ধা সদরের ঘাঘট নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের খোলাহাটি ইউনিয়নে কুঠারপাড়া ও ফারাজিপাড়া সীমান্ত এলাকায় ১৫০ ফুট অংশ এবং গোদারহাট এলাকায় সোনাইল বাঁধের ১শ ফুট অংশ ভেঙে গিয়ে ১৫ গ্রাম ও ফসল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ফারাজিপাড়া এলাকায় গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের কিছু অংশ ডুবে গেছে। ফলে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ভোররাতে ব্রহ্মপুত্রের পানির তোড়ে ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামারী এলাকায় বাঁধের ২০০ ফুট অংশ ভেঙ্গে যায়। এতে উত্তর কাতলামারীসহ আশপাশের ১৬ টি গ্রাম প্লাবিত ও এলাকার রাস্তাঘাট এবং ফসল ডুবে গেছে।

এর আগে, রবিবার ব্রহ্মপুত্র নদের পানির চাপে গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের বাগুড়িয়া এলাকায় একটি বাঁধের ১০০ ফুট অংশ ধ্বসে যায়। এতে বাগুড়িয়া এলাকার ৮ শতাধিক ঘরবাড়ি ও ১০০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

জেলা ত্রাণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ২৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এসব ইউনিয়নের দুই লাখ ৫৪ হাজার ৬৩ জন মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। চারটি উপজেলার এক হাজার ২৪৬ হেক্টর জমির পাট, শাকসবজি, বীজতলা ও আউশ ধান পানিতে ডুবে গেছে। এছাড়া ২৮ হাজার ২৩০টি ঘরবাড়ি, ৯২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, চার কিলোমিটার বাঁধ ও ছয়টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩৬৪টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। পানিবন্দী মানুষের জন্য ১১৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৪২ হাজার ১০২ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

আরও পড়ুন: খোলা আকাশের নিচে বানভাসি মানুষ

অপরদিকে বন্যার পানি উঠায় জেলার চারটি উপজেলায় ৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসেন আলী জানান। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ২১টি, সুন্দরগঞ্জে ২৯টি, সাঘাটায় ৩০টি, ফুলছড়িতে ৫৫টি, সাদুল্লাপুরে ৬টি এবং গোবিন্দগঞ্জে ২টি। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই ফুলছড়ি উপজেলায় তিনটি ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

অন্যদিকে পানি উঠে পড়ায় জেলার ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ফুলছড়ি উপজেলায় চন্দনসার নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ব্রহ্মপুত্রে বিলীন হয়েছে বলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন জানিয়েছেন।

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন আবু হানিফ জানান, জেলার বন্যা কবলিত এলাকায় ১০৯টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এ পর্যন্ত ডায়রিয়া কিংবা পানিবাহিত কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়নি।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, তিস্তা নদী বাদে জেলার সকল নদ- নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সোমবার দুপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ১১২ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি ৭৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে তিস্তার নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। করতোয়া নদীর পানি এখনও বিপদসীমার সামান্য নিচে রয়েছে।

গাইবান্ধার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রোখসানা বেগম বলেন, গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৪০০ মেট্রিক টন চাল এবং দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ছয় লাখ ৫০ হাজার নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিতরণ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া পানিবন্দী মানুষের জন্য আশ্রয়ণ কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন