ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়া শিক্ষক ক্লাসে আসায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসবর্জন

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৯, ২১:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

  শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ৮ দিন ধরে বন্ধ আমড়াগাছিয়া বহুমুখী বিদ্যালয়। ছবি: ইত্তেফাক

ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছিলো ক্রীড়া শিক্ষক মাহফুজুর রহমান প্রিন্স। প্রায় তিন মাস পর সে আদালতের নির্দেশে ক্লাসে ফেরায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেছে। তার অপসারণ দাবিতে আট দিন ধরে ক্লাস হচ্ছে না শরণখোলার আমড়াগাছিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে।

সাময়িক বরখাস্তকৃত ওই শিক্ষক গত ৯ জুলাই বিদ্যালয়ে গেলে ছাত্রছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করে রাস্তায় নেমে আসে। অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের অফিসসহ শ্রেণীকক্ষে তালা দিয়ে আন্দোলনে নামে।

আমড়াগাছিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো, সরোয়ার হোসেন খান জানান, সাময়িক বরখাস্তকৃত শিক্ষক মাহফুজুর রহমান প্রিন্স তিন মাস পরে আদালতের নির্দেশে ৯ জুলাই বিদ্যালয়ের ক্লাসে গেলে ছাত্রছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করে রাস্তায় নেমে আসে।

শিক্ষক মাহফুজুর রহমান প্রিন্স  গত ১৯ মার্চ রাজাপুর গ্রামের রাসেল খানের বাড়ি থেকে এক কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। ওই ঘটনায় ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটি জরুরী মিটিং করে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে।

সাময়িক বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে শিক্ষক মাহফুজুর রহমান বাগেরহাটের শরণখোলা সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা করে। মামলা নং দেঃ ২৩/১৯। ওই মামলায় গত ২৩ জুন আদালত সাময়িক বরখাস্ত আদেশ বাতিল করে শিক্ষক মাহফুজকে বিদ্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেন। 

অভিভাবক দুলাল তালুকদার, ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু, মরিয়ম আক্তার ও রিনা বেগম বলেন, ‘চরিত্রহীন শিক্ষক মাহফুজ ইতিপূর্বে অনেক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কাজ করে বিভিন্নভাবে পার পেয়ে গেছে। তাকে অপসারণ না করা পর্যন্ত ক্লাসবর্জনসহ আন্দোলন অব্যাহত রাখা হবে। 

শিক্ষক মাহফুজুর রহমান তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটা তার বিরুদ্ধে একটি মহলের  ষড়যন্ত্র।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ শহীদ হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশে ওই শিক্ষককে যোগদান করানো হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে তালা মেরে আন্দোলনে নেমেছে । আমরা মিটিং করে ক্লাস চালু করার পদক্ষেপ নেবো। 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুজ্জামান বলেন, ক্লাস শুরুর জন্য বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: বৌভাতের দিন দাফন হলো বর কনেসহ ১১ জনের

শরণখোলা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই খোঁজ নিয়ে অচিরেই ওই বিদ্যালয়ে ক্লাশ শুরুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/নূহু