ঢাকা শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬
২৮ °সে


অদম্য ইচ্ছা শক্তি

অদম্য ইচ্ছা শক্তি
মেহেদী হাসান রকি এবং নীলা খাতুন। ছবি-ইত্তেফাক

এইচএসসি পরীক্ষায় রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মেহেদী হাসান রকি জিপিএ-৪.২৫ এবং সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নীলা খাতুন জিপিএ-৩.৮৬ পেয়েছেন। তাদের এই সাফল্যের মূলেই অদম্য ইচ্ছা শক্তি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে পিছনে ফেলে তারা সামনে এগিয়ে চলেছেন।

রাজশাহী: দুই হাতের কবজি দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২৫ পেয়েছেন মেহেদী হাসান রকি। তিনি বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার গোচর গ্রামের আকছেদ আলীর ছেলে। তিনি আড়ানী ডিগ্রি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রকি জন্মগত প্রতিবন্ধী। দুটি হাত থাকলেও তা অন্যদের চেয়ে অনেক ছোট এবং আঙ্গুল বিহীন। বাবা-মায়ের প্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধী হয়েও সে সকল কাজে সফলভাবে গড়ে উঠছেন।

এরআগে ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় রকি আড়ানী মনোমোহীনি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। রকি পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন।

আড়ানী ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ শেখ সামসুদ্দিন বলেন, রকি প্রতিবন্ধী হলেও তার মেধা অন্যান্য শিক্ষার্থীদের চেয়ে প্রখর। তার হাতের লেখাও ভালো।

রকির বাবা আকছেদ আলী বলেন, ছেলে এইচএসসি পাস করায় ভালো কলেজে ভর্তির সামর্থ নেই তার। কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। রকি জানান, অতি দরিদ্র পরিবারে জন্ম হলেও তিনি লেখাপড়া শিখে সরকারি প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়ে দরিদ্র পিতা-মাতার সেবা করতে চান। তিনি সকলের দোয়া প্রার্থী।

কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ): দারিদ্রকে উপেক্ষা করে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোন বাধা নয় এমনটিই প্রমাণ করে পা দিয়ে লিখে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে এবারের এইচএসসি (আলিম) পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৮৬ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে মেধাবী নীলা খাতুন। নীলা উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের চর বড়ধুল গ্রামের গরীব কৃষক ওসমান গণীর মেয়ে। তার দুটি হাত থাকলেও তা স্বাভাবিকের চেয়ে দৈর্ঘ্যে অনেক ছোট। তিনি দারিদ্রকে জয় করে পা দিয়ে লিখে ২০১১ সালে চর বড়ধুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.০০, ২০১৪ সালে চরবড়ধুল দাখিল মাদ্রাসা থেকে জেডিসি পরীক্ষায় জিপিএ- ৪.৫০, ২০১৭ সালে একই মাদ্রাসা থেকে এসএসসি (দাখিল) পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৭০ এবং ২০১৯ সালে কামারখন্দ ফাযিল মাদ্রাসা থেকে এইচএসসি (আলিম) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ-৩.৮৬ পেয়ে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।

নীলার বড় ভাই শামীম জানান, ছোট থেকেই নীলা লেখাপড়া করতে খুবই আগ্রহী। আমরা খুব কষ্ট করে নীলাকে লেখাপড়া করাচ্ছি। কামারখন্দ ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম জানান, লেখাপড়ায় নীলার প্রবল ইচ্ছা শক্তি রয়েছে। তার হাতের লেখাও খুব সুন্দর। আমি তার জীবনে সাফল্য কামনা করি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, নীলা পা দিয়ে লিখে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তাকে জীবন সংগ্রামে জয়ী মেয়েই বলা চলে। আমরা আশা রাখি তার এই সংগ্রামের মাধ্যমে সে তার জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। লেখাপড়া করতে যদি তার প্রশাসনের কোন সহায়তা প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।

ইত্তেফাক/আরকেজি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন