পুলিশ কর্মকর্তার মানবতায় ধর্ষিতার নবজাতক বেড়ে উঠছে

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ১৯:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

  মিরপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা

এসআই সালাউদ্দিন খান। ছবি: ইত্তেফাক

সালাউদ্দিন খান নামের এক পুলিশ কর্মকর্তার মানবতায় এক ধর্ষিতা শিশুর (১২) গর্ভে জন্ম নেওয়া নবজাতক বেড়ে উঠছে। সালাউদ্দিন খান কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসাবে কর্মরত। 

সাব-ইন্সপেক্টর সালাউদ্দিনের ওপর দায়িত্ব বর্তায় হতদরিদ্র ওই ধর্ষিতার (১২) মামলার তদন্তের। তদন্তে নেমে তিনি ওই ধর্ষিতার গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুটির দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি ধর্ষণের শিকার অন্তঃসত্ত্বা ওই শিশুর চিকিৎসাবাবদ নিজের পকেট থেকে খরচ করেছেন ২৫ হাজারের বেশি টাকা।

আসন্ন কোরবানীর ঈদের জন্য ধর্ষণের শিকার শিশু ও তার নবজাতকের জন্য কিনে দিয়েছেন নতুন পোশাক। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি অকৃত্রিম মানসিক সমর্থন দিয়ে তিনি মানবতার এক অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

বহুল আলোচিত পাশবিকতার শিকার সেই শিশুটি গত ২০ জুলাই কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ডাঃ ফারহানা আফরোজ চমনের কাছে সিজারিয়ানের মাধ্যমে ফুটফুটে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছে। এস আই সালাউদ্দিনই শিশুটির নাম দিয়েছেন 'বাবু'। মা ও নবজাতক উভয়েই সুস্থ্য আছে।

উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের আশ্রায়ন প্রকল্পে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার শিশুটি ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

আলোচিত ওই ধর্ষণকাণ্ডের খলনায়ক ওসমান ওরফে হামারা নামে ৬০ বছরের এক বৃদ্ধ। এ ঘটনায় শিশুটির মাতা বাদী হয়ে ওসমান ওরফে হামারকে একমাত্র আসামি উল্লেখ করে মিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম চলতি বছরের ১ জুলাই বাদীর টাইপকৃত লিখিত এজাহারটি আমলে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় থানার নথিভুক্ত করেন। মামলা নং-১। এরপর মিরপুর থানার ওসি চাঞ্চল্যকর মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করেন থানার চৌকস এস আই সালাউদ্দিন খাঁনকে।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত হলে গা ঢাকা দেয় ধর্ষক হামারা। কিন্তু মামলা দায়েরের ৭২ ঘন্টার মধ্যেই প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল আলীমের নেতৃত্বে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই সালাউদ্দিন খান নওগাঁ জেলার পত্নীতলার সুরহট্রি গ্রামে ধর্ষকের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করেন।

পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে হামারা ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বিকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে।

আরও পড়ুন: গঙ্গাচড়ায় চুল কেটে, গলায় জুতার মালা পরিয়ে গৃহবধূকে নির্যাতন

মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা এসআই সালাউদ্দিন খান ২০০৫ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। নারায়নগঞ্জ পুলিশ লাইন তার প্রথম কর্মস্থল। ২০১২ সালে সালাউদ্দিন খাঁন এএসআই ও ২০১৭ সালে এসআই পদে পদোন্নতি পান। সালাউদ্দিন খাঁন ফরিদপুর পৌরসভার টেপাখোলা মহল্লার মৃত আলাউদ্দিন খাঁনের ছেলে।

ইত্তেফাক/নূহু