ঢাকা শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬
২৮ °সে


যশোরে চামড়া কিনে বিপাকে মৌসুমি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

যশোরে চামড়া কিনে বিপাকে মৌসুমি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা
ছবি: সংগৃহীত

মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী লেয়াকত আলী। বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ক্রয় করেছিলেন শতাধিক কোরবানি পশুর চামড়া। সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম ৩৫ থেকে ৪৫ টাকারও কম দরে ক্রয় করেছিলেন। ঈদ পরবর্তী হাটে সে চামড়া নিয়ে এসেছিলেন বিক্রি করতে। তবে কেউ চামড়া কিনতে চাননি। দু’একজন দাম বলেছেন, প্রতিপিস ২৫ থেকে ৫০ টাকা। শুধু লেয়াকত আলী নয়; এমন অবস্থা সবার। বুধবার হাটে এমন অনেকে চামড়া হাটে রেখেই বাড়ি চলে গেছেন। টানা দরপতন আর ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া আদায় না হওয়ায় কোরবানি পরবর্তী চামড়ার হাট জমেনি। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

তাদের মতে, চামড়ার দাম যৌক্তিক পর্যায়ে না আসলে ধারাবাহিক লোকসানের কারণে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বেন। এ অবস্থায় চামড়া ব্যবসার সুদিন ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহায়তা চেয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তবর্তী এ জেলা থেকে ভারতে চামড়া পাচারের আশঙ্কা অনেকের। তবে পুলিশ প্রশাসন বলছেন, চামড়া পাচার রোধে সবধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

যশোরের রাজারহাট দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তম চামড়ার হাট। এই হাটে যশোরসহ খুলনার বিভাগের ১০ জেলার ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা, ঈশ্বরদী নাটোরের বড় বড় ব্যবসায়ীরা চামড়া বেচাকেনা করেন। কয়েক বছর ধরে চামড়ার টানা দরপতন ও ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া আদায় না হওয়ায় বর্তমানে হাতশূন্য অবস্থা ব্যবসায়ীদের। ফলে ঈদ পরবর্তীতে এ হাটে চামড়া ক্রয় করেননি বড় ব্যবসায়ীরা। অনেকে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে ফেলে রেখে চলে গেছেন। প্রতিবছর ঈদ মৌসুমের সময় রাজারহাট জমজমাট থাকলেও এবছর দোকানগুলো রয়েছে বন্ধ।

আরো পড়ুন: কুষ্টিয়ায় মাদক মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান, এক কেজি লবণের দাম ৪০ টাকা। আর একটি গরুর চামড়ার দাম ২৫ টাকা। তাহলে আমরা চামড়া ক্রয় করে তাতে লবণ লাগিয়ে কেমন করে লাভ করব।

রূপদিয়ার চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুল ওহাব বলেন, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে আমার পাওনা রয়েছে এক কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত সে টাকা পাইনি। তাহলে আমরা চামড়া কিনব কি দিয়ে? বাধ্য হয়ে এবছর চামড়া ক্রয় থেকে বিরত রয়েছি। এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে ও চামড়া ব্যবসার সুদিন ফিরিয়ে আনতে নতুন বাজার সৃষ্টিতে সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান ব্যবসায়ীদের।

এদিকে চামড়া বিক্রি না হওয়া ও দাম কম হওয়ার কারণে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে চামড়া ভারতে পাচার করতে পারে বলে অনেকে অভিযোগ করেন। তবে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানী বলেন, এ এলাকা দিয়ে চামড়া পাচার রোধ করতে সবধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল বলেন, ট্যানারি মালিকদের বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় অনেক ব্যবসায়ী চামড়া ক্রয় করতে পারেননি। অন্যদিকে এমনিতেই চামড়ার দাম কম রয়েছে। ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী শনিবারের হাটে চামড়া বেশি বিকিকিনি হবে বলে আশা করছি।

ইত্তেফাক/বিএএফ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন