ঢাকা রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬
১৭ °সে

অর্থসংকটে চট্টগ্রাম ওয়াসা

অর্থসংকটে চট্টগ্রাম ওয়াসা
ফাইল ছবি

চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। সেবামূলক প্রতিষ্ঠানটি লোকসানে পরিচালিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম ওয়াসায় বিদেশি ও সরকারের অর্থায়নে কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ৭ হাজার ৬৫১ কোটি ৬ লাখ টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। আগামী দুই বছর পর থেকে প্রকল্পের অধীনে নেওয়া ঋণ সুদে-আসলে পরিশোধ শুরু করতে হবে। তাই আয় বাড়ানো না গেলে ওয়াসা আরো অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারিভাবে কোনো ভর্তুকি পাচ্ছে না ওয়াসা। তাই পানির মূল্য বৃদ্ধি করে আয় বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ।

ওয়াসা সূত্র জানায়, বর্তমানে ওয়াসার পানি বিক্রি খাতে বছরে আয় হচ্ছে প্রায় ৮৫ কোটি টাকার মতো। আর এফডিআর খাতে কিছু আয় হয়ে থাকে। সব মিলিয়ে ওয়াসার বছরে আয় প্রায় ১০৮ কোটি টাকা। আর বছরে ব্যয় হচ্ছে ১২০ কোটি টাকা। ফলে আয়-ব্যয়ে সমন্বয় করে চলতে ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ইতিপূর্বে ওয়াসা ভর্তুকি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলেও কোনো সাড়া মিলেনি। মন্ত্রণালয় থেকে ওয়াসাকে আয় বৃদ্ধির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ওয়াসার বোর্ড সভায় বর্তমানে নির্ধারিত আবাসিকে প্রতি ১ হাজার লিটার পানির দাম ৯ টাকা ৯২ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে ১৬ টাকা ও অনাবাসিকে ২৭ টাকা ৫৬ পয়সা থেকে ৪০ টাকা করার প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। গৃহীত প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ওয়াসার পানি বিক্রি খাতে আয় বছরে প্রায় ৩৫/৪০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেতে পারে।

ওয়াসার নতুন ৪টি পানি শোধনাগারের মধ্যে দুইটির নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে শেষ করে নগরীতে পানি সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। আর দুইটি বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। এরমধ্যে শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ১ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আর কর্ণফুলী দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্প ৪ হাজার ৪৯১ কোটি টাকায় বাস্তবায়ন হচ্ছে। মদুনাঘাট পানি শোধনাগার বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে। এই প্রকল্পের ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। এছাড়া ভান্ডারজুরী প্রকল্প কোরিয়ান অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি ঋণ ৪৩৭ কোটি টাকা।

আরো পড়ুন : ছাত্রদলের শীর্ষ দুই পদে ৭৫ জনের মনোনয়নপত্র জমা

ওয়াসা সূত্র জানায়, বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে ওয়াসার ঘাড়ে ঋণের বোঝা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬৫১ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে বিদেশি ঋণ ৬ হাজার ৭৯১ কোটি ৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা। আর সরকারি ঋণ ৮৬০ কোটি ৮৮ লাখ ২২ হাজার টাকা। এসব ঋণ আগামী ২০২২ সাল থেকে পরিশোধ শুরু করতে হবে। এতে ঋণ বাবদ সুদে-আসলে বছরে ১০০ কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করতে হবে। তাই পানির মূল্য বৃদ্ধি করে আয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

ইত্তেফাক/ইউবি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন