রিফাত হত্যা: ৮ আসামির বিরুদ্ধে ১৬ মামলা, ১৭ আলামত আদালতে দাখিল

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

  বরগুনা (উত্তর) প্রতিনিধি

ফাইল ছবি

বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত হত্যা মামলায় একটি রিকশাসহ ১৮ ধরণের আলামত জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে একটি রিকশা ব্যতীত বাকি ১৭ ধরণের আলামত আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ। এছাড়াও এ মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ৭৫ জনকে। এদের মধ্যে নিহত রিফাতের ঘনিষ্ঠ স্বজনসহ পুলিশ, চিকিৎসক এবং এলাকাবাসী রয়েছেন।

জানা গেছে, তিনটি পেনড্রাইভ, একটি ডিভিডি, রিফাতের ওপর হামলার স্থানে রক্তমাখা রাস্তার পিচের অংশ বিশেষ, একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা, একটি রক্তমাখা অফহোয়াইট শার্ট, একটি স্টিলের চামচ, একটি কালো রংয়ের নারীদের জামা, একটি চিরুনি, মিন্নির বাঁধাই করা একটি ছবি, খোদাই করে নয়ন+মিন্নি লেখা একটি শামুক, সিম-মেমোরি কার্ডসহ বিভিন্ন ব্রান্ডের ছয়টি মোবাইল ফোন, রক্তমাখা কালো রংয়ের একটি জিন্সের প্যান্ট ও একটি রামদা মামলার আলামত হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্ত ২৪ জনের মধ্যে ৮ জনের বিরুদ্ধে মাদক, হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলাসহ মোট ১৬টি মামলা রয়েছে। এরা আটজন হলো, রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজী, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, মো. রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. মুছা, মো. সাগর, মো. রাশেদুল হাসান ওরফে রিশান ফরাজী, মো. তানভীর হোসেন এবং মো. ওয়ালিউল্লাহ অলি। 

তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির চার্জশিটে উল্লেখ করেন, মামলার এজাহার ও তদন্তে পাওয়া অভিযুক্তদের বয়সের বিবেচনায় দুভাগে ভাগ করে চার্জশিটটি দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তদের নিয়ে গঠিত চার্জশিতে মোট অভিযুক্তের সংখ্যা ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে গঠিত চার্জশিটে মোট অভিযুক্তের সংখ্যা ১৪ জন।

আরও পড়ুন: পুলিশের বিরুদ্ধে এজাহার বদলের অভিযোগ

জানা গেছে, তিনটি পেনড্রাইভ, একটি ডিভিডিতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ বন্ড ০০৭ গ্রুপের সকল তথ্য ডাইনলোড করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্ক্রিনশটসহ নয়ন বন্ডের জন্মদিনে মিন্নির উপস্থিতির ভিডিও দেওয়া হয়েছে একটি পেনড্রাইভে। এছাড়া এ মামলার আলামত হিসেবে দেখানো রিকশাটি মূলত আহত রিফাত শরীফকে নিয়ে কলেজের সামনে থেকে হাসপাতালে গিয়েছিল। শুধুমাত্র এই রিকশাটি মালিকের জিম্মায় প্রদান করা হয়েছে। 

পেনড্রাইভ ও ডিভিডিতে থাকা সকল ভিডিও ফুটেজ এবং স্ক্রিনশট পুলিশের সাইবার ফরেনসিক বিভাগের বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে। এসব ডিভাইসে থাকা ভিডিও ফুটেজ এবং স্ক্রিনশট কোনো প্রকার এডিটিং করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের দেওয়া এমন সাইবার ফরেনসিক মতামত চার্জশিটে যুক্ত করা আছে। এছাড়া জব্দ করা ছয়টি মোবাইলের মধ্যে চারটি মোবাইলের বিষয়েও নেওয়া হয়েছে বিশেষজ্ঞদের মতামত।

মামলায় এক নম্বর সাক্ষী করা হয়েছে নিহত রিফাতের বাবা মো. দুলাল শরীফকে। ২৬ নম্বর সাক্ষী করা হয়েছে হেলাল সিকদারকে। এই হেলালের মোবাইলকে কেন্দ্র করেই করেই রিফাত হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। ৩০ ও ৩৫ নম্বর সাক্ষী করা হয়েছে নয়ন বন্ড ও মিন্নির বিয়ের কাজী মো. আনিচুর রহমান এবং এবং বিয়েতে মিন্নির উকিল বাবা মো. রাইয়ানুল ইসলাম শাওনকে।

ইত্তেফাক/অনি