ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬
২৯ °সে


স্বাধীনতা ও পরাধীনতার পার্থক্য অনুধাবনের সক্ষমতা উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

স্বাধীনতা ও পরাধীনতার পার্থক্য অনুধাবনের সক্ষমতা উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু
ছবি: ইত্তেফাক

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, আমাদের দেশের মানুষ স্বাধীনতা ও পরাধীনতার পার্থক্য অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছে বলেই ৪৭ বছরে তাদের ভাগ্য উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাধীন বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে উন্নয়নপ্রক্রিয়া অগ্রসর হচ্ছে, যা পাকিস্তান আমলে ঘটেনি, রাষ্ট্রের চরিত্র পরাধীন ছিল বলে। আজকের প্রজন্মকে রাজনৈতিক সচেতন হয়ে নিজেদেরকে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতায় সমৃৃদ্ধ করতে হবে, যাতে আগামীদিনে দেশের নেতৃত্ব দিতে তারা সমর্থ হয়।

তিনি গতকাল শনিবার পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানীতে উপজেলা পরিবারপরিকল্পনা অফিস-কাম স্টোর উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে আরো বলেন, প্রত্যাশিত উন্নয়নের জন্য এলাকাবাসীকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিগত ৩৪ বছর ধরে আমি এলাকায় যে কথাটি সবসময় বলে এসেছি, তা হলো যেখানে ঝামেলা, মতানৈক্য, ঝগড়া-বিবাদ থাকে, সেখানে সরকারের সর্বোচ্চ ব্যক্তি থেকে শুরু করে সর্বস্তরের উন্নয়ন বরাদ্দ দানে কর্তৃপক্ষের অনীহা থাকে।

তিনি বলেন, উন্নয়ন চাইলে সরকারি কর্মকর্তাদের ভালোবাসতে হবে। চাঁদাবাজি, ডান্ডাবাজি, পেশিশক্তির দৌরাত্ম্য থাকলে সে এলাকার মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত হন। সরকারি কর্মকর্তারা আচার-আচরণে বিনয়ী-উদার হতে পারেন, কিন্তু আইন প্রয়োগে বা প্রশাসন পরিচালনায় কঠোরতা অবলম্বন করেন। এটাই তাদের ওপর অর্পিত সাংবিধানিক দায়িত্ব। গত ৪৭ বছরে বাংলাদেশের চিত্র বা ছবির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ ক্রমান্বয়ে উন্নয়ন চাহিদা পূরণের ধারা অনুসরণ করে অধিকতর ফল লাভ করেছে। এই হচ্ছে স্বাধীনতার প্রতিফলন। সবার মধ্যে নিজস্ব মত, দল করার অধিকার তথা রাজনৈতিক বিশ্বাস ভিন্ন ভিন্ন থাকবে, কিন্তু কাজের ব্যাপারে অবশ্যই এক থাকতে হবে। রাজনীতি করলে ভবিষ্যত্ নেতৃত্বে আসা সহজ হয়। এ ক্ষেত্রে আমরাও বিভিন্ন পর্যায়ে ছাত্রজীবনে ও পেশাগত জীবনে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্বে থেকে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা অর্জনে সফলতা পেয়েছি।

আরো পড়ুন: গোটা পৃথিবী ভ্রমণ করতে চান যে অন্ধ পর্যটক

তিনি বলেন, আমরা মনে করি, যেখানে ঐক্য সেখানেই শক্তি। ইন্দুরকানী অতীতে এক সময় উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। মানুষের ধর্মবিশ্বাসভিত্তিক রাজনীতিতে উগ্রবাদের প্রভাব থাকায় এ পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছিল। পরকালে বেহেস্ত লাভের আশা মানুষের ধর্মবিশ্বাস প্রসূত ধারণা, যা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু গোড়ামি বা উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ অবলম্বন করে ধর্মবিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করা যায় না। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে সচেষ্ট থাকতে হবে।

ইন্দুরকানী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ, পিরোজপুর জেলা পরিবারপরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক রাম কৃষ্ণ দাস, ইন্দুরকানী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত পরিবারপরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সোহাগ হোসেন প্রমুখ। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের পিরোজপুর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুুল মালেক, ইন্দুরকানী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাগা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দিলরুবা মিলন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. শংকর চন্দ্র ঘোষ প্রমুখ।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি গতকাল বিকালে ইন্দুরকানী উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন। তিনি উপজেলা সদরে নবনির্মিত উপজেলা পরিবারপরিকল্পনা কার্যালয় ভবন ও মিরা বাড়ির সামনের কালাইয়া খালের ওপর নবনির্মিত ত্রাণের ব্রিজের শুভ উদ্বোধন করেন। উপজেলা সদরে ইন্দুরকানী ‘উপজেলা মডেল মসজিদ’ নির্মাণ ও পত্তাশী ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়া ইন্দুরকানী পাকা খেয়াঘাট নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, পত্তাশী ইউনিয়নের গাবগাছিয়া গ্রামের আবদুল মান্নান গাজির বাড়ির কাছের খাল, রামচন্দ্রপুর গ্রামের গৌরঙ্গ মিস্ত্রির বাড়ির সামনের খাল ও খেজুরতলা বাজারের পেছনের খালের ওপর ত্রাণ অধিদপ্তরের পৃথকভাবে নির্মিত তিনটি ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর একই ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন। পরে পাড়েরহাট ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামে ইলিয়াস মেম্বারের বাড়ির সামনের খাল এবং পশ্চিম নলবুনিয়া গ্রামের সোহরাব শরীফের বাড়ির খালের ওপর ত্রাণের ব্রিজ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এসব স্থাপনার উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষ্যে আলাদাভাবে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এসব দোয়া ও মোনাজাতে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন জাতীয় পার্টি-জেপির উপজেলা সভাপতি আসাদুল কবির তালুকদার স্বপন, সহসভাপতি ও পাড়েরহাট ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার বাবুল, পত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন হাওলাদার প্রমুখ। ইন্দুরকানীতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সফরসঙ্গী ছিলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, জেপির ভাণ্ডারিয়া সদস্য সচিব ও ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, জেপির কেন্দ্রীয় নেতা ইউসুফ আলী আকন, টুঙ্গীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রশীদ তারিক প্রমুখ।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল দুপুরে ভাণ্ডারিয়ার টিঅ্যান্ডটি রোডে সম্প্রতি আত্মহননকারী ছাত্রী রুপাইয়া আক্তার রুপার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার বাড়িতে দেখা করেন। এ সময় তিনি রুপার পিতা রুহুল আমীন মুন্সীসহ পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং আত্মহত্যা মামলার আসামিদের বিচারের আশ্বাস দেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন