ঢাকা মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬
২৩ °সে


রাজশাহীর চারঘাট সীমান্ত এখনো থমথমে

রাজশাহীর চারঘাট সীমান্ত এখনো থমথমে
স্থানীয়দের মধ্যে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে।ছবি-ইত্তেফাক

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলি বিনিময়ে এক বিএসএফ জওয়ান নিহতের চারদিন পরও চারঘাট সীমান্তে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরেনি। গত ১৭ অক্টোবর রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা সদরের পদ্মা-বড়ালের মোহনায় ইলিশ ধরার নিষিদ্ধ সময়ে জেলে আটকের জেরে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এদিকে বিজিবির পক্ষ থেকে ওই সীমান্ত এলাকা স্বাভাবিক দাবি করা হলেও স্থানীয়দের মধ্যে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। পদ্মা-বড়ালের এ পাড়ের বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা তাদের আতঙ্কের কথা স্বীকার করেছেন।

স্থানীয় চকমোক্তারপুর গ্রামের রবিউল, জমশেদ ও মহাদেবসহ অনেকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে তারা আতঙ্কে রয়েছেন। নদীতে নামতে সাহস পাচ্ছেন না। সন্ধ্যায় পদ্মার ধারেও কেউ আর যাচ্ছে না। সবার মনে অজানা আতঙ্ক, যদি কিছু হয়। স্থানীয়ভাবে মাইকিং করে নদীতে নামতে নিষেধ করায় জনমনে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

স্থানীয় গোপলপুরের বাসিন্দা সাবদুল বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে কেউ নদীর ধারের জমিতে কাজ করতেও সাহস পাচ্ছে না। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ আর নদীতে যাচ্ছে না। স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিএসএফ আগে ভারতীয় সীমানায় বাংলাদেশী হত্যা করলেও বাংলাদেশে প্রবেশ করে বিজিবি সদস্যদের গুলি করার খবরে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যদিও বিজিবির পক্ষ থেকে জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

চারঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলাম বলেন, বিজিবি-বিএসএফ গুলি বিনিময়ের ঘটনা অনাকাঙ্খিত ও দুঃখজনক। বর্তমানে সীমান্তে কোনো আতঙ্ক নেই। তবে সাধারণের মনে ভয় তো একটু থাকবেই। ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত পদ্মায় মাছ না ধরতে সকলকে সতর্ক করা হয়েছে।

চারঘাট বিওপির হাবিলদার নুরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে আতঙ্ক নেই। সাহস দেয়া ছাড়াও এলাকাবাসীকে মাছ ধরার আইন অমান্য না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার পদ্মায় ইলিশ ধরার সময় ভারতীয় জেলে প্রণব মন্ডলকে আটকের পরপরই বেলা পৌনে ১১টার দিকে স্পীডবোট নিয়ে একদল বিএসএফ অবৈধভাবে বাংলাদেশের প্রবেশ করে। এসময় তারা বিজিবির হাত থেকে প্রণবকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এতে বিজিবি বাধা দিলে বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে গলিবর্ষণ করে বিএসএফ সদস্যরা। পরে আত্মরক্ষার্থে বিজিবি সদস্যরাও পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশ এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ওইদিন বিকেলে অনুষ্ঠিত বাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে জওয়ান হতাহতের দাবি করে বিএসএফ। এছাড়া ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ও কর্তৃপক্ষ কথিত পতাকা বৈঠকের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করে। অবশ্য পতাকা বৈঠকে দু’পক্ষই ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত মন্তব্য করে তদন্তে সম্মত হয়। কিন্তু বিএসএফ নিজ দেশের থানায় বিজিবির বিরুদ্ধে মামলা করায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে বিজিবি-১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, শুনেছি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষকে আইন ভঙ্গ না করতে সতর্ক করেছেন । চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হক সীমান্ত এলাকায় মাইকিং করার তথ্য নিশ্চিত করেন।

ইত্তেফাক/আরকেজি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১২ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন