ঢাকা শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৯ °সে


ভিডিও গেম আসক্তি ঠেকাতে কারফিউ!

ভিডিও গেম আসক্তি ঠেকাতে কারফিউ!
ছবি: সংগৃহীত

চীনে ভিডিও গেমে আসক্তি মারাত্মক রূপ নেওয়ায় তা বন্ধে রীতিমতো কারফিউ জারি করেছে দেশটির সরকার। মূলত অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপরই কার্যকর হবে এই নিষেধাজ্ঞা। গত বুধবারের এই ঘোষণায় যাদের বয়স ১৮ বছরের কম তারা রাত দশটা থেকে সকাল আটটার মধ্যে কোন অনলাইন গেম খেলতে পারবে না। সাপ্তাহিক কর্মদিবসে দেড় ঘন্টার বেশি আর সাপ্তাহিক ছুটি বা অন্য ছুটির দিনে তিন ঘণ্টার বেশি গেম খেলতে পারবে না। ভিডিও গেমে আসক্তির কারণে শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। খবর বিবিসির।

চীন বিশ্বে অনলাইন ভিডিও গেমিংয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। নতুন নীতিমালায় অপ্রাপ্ত বয়স্করা গেমিংয়ের পেছনে কত অর্থ ব্যয় করতে পারবে তার সীমাও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। ৮ হতে ১৬ বছর বয়সীরা প্রতি মাসে ২০০ ইউয়ান (২৯ মার্কিন ডলার) পর্যন্ত খরচ করতে পারবে, আর যাদের বয়স ১৬ হতে ১৮ তারা পারবে এর দ্বিগুণ।

২০১৮ সালে চীন সরকার গেমিংয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করে। শিশুদের মধ্যে দৃষ্টিক্ষীণতার সমস্যা বেড়ে যাওয়ার পর সরকার এই পদক্ষেপ নিল। বড়ো বড়ো ভিডিও গেম কোম্পানিগুলো চীনের এই পদক্ষেপে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তবে কিছু সমস্যা রয়েই গেছে। এই যেমন—বয়স যাচাই কীভাবে করা হবে এবং এসব নিয়ম কানুন মানা হচ্ছে কীনা, সেটা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে ইত্যাদি। চীন সরকার বলছে, এখন যে নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে তা শুধু অনলাইন গেমিংয়ের ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে।

গত বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গেমিংয়ের আসক্তিকে একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে। এটিকে ‘গেমিং ডিজঅর্ডার’ বলে বর্ণনা করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মনো চিকিত্সকদের সংগঠন সাইক্রিয়াট্রি অ্যাসোসিয়েশন এখনো এটিকে কোন স্বাস্থ্য সমস্যা বলে স্বীকৃতি দেয়নি। তাদের মতে, এটি নিয়ে আরো গবেষণা দরকার। তবে কয়েকটি দেশের সরকার অতিরিক্ত গেম খেলাকে একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অনেক দেশে গেমিংয়ের আসক্তি কমানোর জন্য ক্লিনিকও আছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন