ঢাকা সোমবার, ২০ জানুয়ারি ২০২০, ৭ মাঘ ১৪২৭
১৯ °সে

মিয়ানমার দোষী সেনাদের বিচার করবে তা বিশ্বাসযোগ্য নয়

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়া
মিয়ানমার দোষী সেনাদের বিচার করবে তা বিশ্বাসযোগ্য নয়
ছবি- সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়া বলেছে, নৃশংসতার জন্য দায়ী সেনাদের মিয়ানমার বিচার করবে তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। দেশটির এই বক্তব্যে আস্থা রাখা যায় না। মামলার পূর্ণ শুনানির আগ পর্যন্ত মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে নিবৃত্ত রাখতে আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশ দেওয়া জরুরি।

বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলার শুনানিতে বাদী দেশ গাম্বিয়ার এক আইনজীবী এ কথা বলেন।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি তল্লাশি চৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অভিযান চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ, নির্যাতনের মুখে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

এ ঘটনার দুই বছরের বেশি সময় পর গত ১১ নভেম্বর অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) সমর্থনে আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ আনে পশ্চিম আফ্রিকার ছোটো দেশ গাম্বিয়া। এই মামলায় গাম্বিয়াকে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে সহায়তা করছে বাংলাদেশ, কানাডা ও নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে এই মিয়ানমারের এজেন্ট হিসেবে আদালতে হাজির হয়েছেন দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি।

গতকাল মামলার তৃতীয় দিনে প্রথমেই যুক্তি খণ্ডন করে সমাপনী বক্তব্য রাখেন গাম্বিয়ার পক্ষের আইজীবীরা। বাংলাদেশ সময় গতকাল বিকাল তিনটায় প্রথম যুক্তি তুলে ধরে গাম্বিয়া। দেশটির বিচারমন্ত্রী আবুবাকার তাম্বাদুসহ মোট চার জন আইনজীবী রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগের বিষয়ে ৯০ মিনিট যুক্তি দেন। এরপর আদালতের কার্যক্রম মুলতবি রাখা হয়। রাত সাড়ে ৯টা থেকে মিয়ানমারের আইনজীবীরা যুক্তি খণ্ডন করে সমাপনী বক্তব্য রাখেন। বলা হচ্ছে, আদালত এই মামলার রায় দেবে কি দেবে না, সেটা নতুন বছরের শুরুর দিকেই জানা যাবে। এটা এক দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সূচনা মাত্র। এর আগে গত মঙ্গলবার আদালতে গাম্বিয়া এবং বুধবার মিয়ানমার শুনানিতে তাদের বক্তব্য তুলে ধরে।

যুক্তিতর্কের শুরুতেই গাম্বিয়ার আইনজীবী পল রিয়েচলার বলেন, এখন পর্যন্ত গুরুতর অপরাধের অভিযোগে কোনো সেনার বিচার করেনি মিয়ানমার। তারা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এমনকি জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত করার জন্যও কোনো বিচার হয়নি। তাই তারা সেনাদের কোনো বিচার করবে এটা বিশ্বাস করা যায় না। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন বিষয়ে মিয়ানমারের বক্তব্য সম্পূর্ণ ‘ফ্রড’। মিয়ানমার নিজেই স্বীকার করেছে যে, খুব সামান্য সংখ্যায় উদ্বাস্তু ফিরেছে। প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব মিয়ানমারের। কিন্তু তারা সেটি করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, মিয়ানমারের নেত্রী সু চি আদালতে রোহিঙ্গা বিশেষণটি ব্যবহার করেননি। মুসলিম হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

পল রিয়েচলার বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানে গণহত্যার উদ্দেশ অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, গণহত্যার উদ্দেশ অনুমান করা হলেও তার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী আদেশ দেওয়া যায় না। মিয়ানমারের আইনজীবী অধ্যাপক সাবাস গণহত্যার উদ্দেশ প্রমাণের জন্য সাতটি নির্দেশকের কথা বলেছেন। সেই নির্দেশকগুলোর কথা গাম্বিয়ার আবেদনে রয়েছে এবং মিয়ানমার সেগুলো অস্বীকার করেনি।

গাম্বিয়ার আরেক আইনজীবী পিয়েঁর দ্য আর্জেন বলেন, গাম্বিয়া ওআইসি মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর মামলা করেছে বলে মিয়ানমারের আইনজীবী স্টকার যে দাবি করেছেন তা বিভ্রান্তিকর। মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ ওআইসির নয়, গাম্বিয়ার। তিনি বলেন, মিয়ানমারের আইনজীবী স্টকার বলেছেন, কোনো অপরাধ যদি ঘটেও থাকে, তাহলে গাম্বিয়ার সেই বিষয়ে মামলা করার অধিকার নেই। তার এ বক্তব্য সঠিক নয়। গাম্বিয়া সনদের স্বাক্ষরকারী হিসেবে সনদ লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনের অধিকার রাখে।

সমাপনী বক্তব্যে গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনমন্ত্রী আবুবাকার তাম্বাদু বলেন, রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়ে কথা বলার সার্বভৌম ক্ষমতা রয়েছে গাম্বিয়ার। তাই আমরা আদালতে এসেছি। আমরা গণহত্যা সনদ রক্ষা করতে চাই। রোহিঙ্গাদের বিচার বহির্ভূত হত্যা ও গণধর্ষণ করা হয়েছে। তাদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। গাম্বিয়া চায় না কোনো জাতিগোষ্ঠী গণহত্যার শিকার হোক। রোহিঙ্গাদের অবস্থা খুবই করুণ। জাতিসংঘ ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে সেই চিত্র উঠে এসেছে। রোহিঙ্গাদের বিচার বহির্ভূত হত্যা ও গণধর্ষণের তদন্ত করতে হবে। তিনি গণহত্যা সনদের রক্ষক হিসেবে এই আদালতের কাছে জরুরিভিত্তিতে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার নির্দেশনার দাবি জানান।

গাম্বিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা আরসার

রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ তুলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করায় গাম্বিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়েছে রোহিঙ্গাদের বিদ্রোহী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। এক ভিডিও বার্তায় আরসার প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার বলেন, আমি গাম্বিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন