নির্ভয়া হত্যা: চার আসামির ফাঁসি পেছালো আদালত

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২০, ১৭:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

  অনলাইন ডেস্ক

ছবি-এনডিটিভি

ভারতের আলোচিত প্যারামেডিক শিক্ষার্থী নির্ভয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির মৃত্যুদণ্ডের তারিখ পিছিয়েছে আদালত। আদালত ২২ জানুয়ারি চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন ধার্য করার পর দুই আসামির করা ফাঁসির আদেশ রিভিউর আবেদন গতকাল মঙ্গলবার খারিজ করে দেয় আদালত। সেদিনই এক আসামি মুকেশ সিং রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন। এর প্রেক্ষিতে ফাঁসির তারিখ পেছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালত। খবর এনডিটিভি’র

নিয়ম অনুযায়ী কোন আসামি প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতির নিকট আবেদন জানালো ফাঁসির দিন তারিখ পূর্বেই ঠিক করা থাকলেও সেটা কার্যকর হবে না। রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের পরই পরবর্তী কাজ শুরু করতে হবে। রাষ্ট্রপতি ক্ষমার আবেদন নাকচ করে দিলেও কোনো অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে ১৪ দিনের নোটিশ দিতে হবে। 

দিল্লি সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী রাহুল মেহরা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি যদি আসামির প্রাণভিক্ষা প্রত্যাখ্যান করে দেন, তার পরেই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ভাগ্য চূড়ান্ত হবে।’

তিহার জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই নিয়মের অধীনে, মৃত্যুর পরোয়ানা কার্যকর করার আগে রাষ্ট্রপতির নিকট আসামির করা প্রাণভিক্ষার আবেদনের সিদ্ধান্তের জন্য তারা অপেক্ষা করবে। 

এদিকে, নির্ভয়ের মা রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দকে মুকেশ সিংয়ের ক্ষমার আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করার অনুরোধ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে দিল্লিতে বাসের মধ্যে প্যারাম্যাডিক শিক্ষার্থী নির্ভয়াকে ছয়জন মিলে ধর্ষণ করে। পরে তাকে বাস থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় তারা। এতে গুরুতর আহত হওয়া নির্ভয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনায় ছয় জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। তাদের এক জন মারা যাওয়ায় তাকে মামলার বাইরে রাখা হয় এবং আরেকজন ওই সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। ২০১৭ সালের ৫ মে বাকি চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত। 

আরও পড়ুন:নতুন প্রমাণসহ সিনেটে যাবে ট্রাম্পের অভিশংসন অভিযোগ

রায়ের পর চার আসামিই তা রিভিউয়ের আবেদন করে। ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন আদালত। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে দিল্লির আদালত। ওই পরোয়ানা অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি সকাল ৭টায় তাদের ফাঁসি কার্যকর করার কথা। তবে বুধবার আদালত সেই তারিখ পেছানোর সিদ্ধান্ত নেবার পর এখন পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য রাষ্ট্রপতির দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। 

ইত্তেফাক/এসইউ