ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ছবি: সংগৃহীত।

বহুল প্রতীক্ষিত মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মঙ্গলবার এই পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কোন কোন দেশ এই পরিকল্পনাকে এক পাক্ষিক বললেও কিছু দেশ আবার এই পরিকল্পনাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে। খবর আল জাজিরার।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনার পর দেয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রস্থ সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ আল ওতাইবা বলেন, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে আলোচনার পথ আবার উন্মুক্ত হলো। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘকালীন শান্তি আসার এক মাত্র উপায় হচ্ছে

সকল দলের সম্মতিতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো।

মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা প্রকাশের পর ইরান এটিকে প্রত্যাখান করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানী এক টূইট বার্তায় বলেন, এটি ইসরাইল এবং আমেরিকার মধ্যে একটি চুক্তি। এটা কোন শান্তি চুক্তি নয় বরং এটি দ্বারা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা নিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই পরিকল্পনা আক্রমনাত্মক এবং এটি অনেকের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করবে। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এই পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, আমরা আত্মসমর্পণ করবো না।

এদিকে মিশর ইসরাইল এবং ফিলিস্তিন দুই দেশকেই মনযোগ দিয়ে এই প্রস্তাবটিকে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা প্রত্যাখান করেছে তুরস্ক। তুরস্কের ক্ষমতাসীন একে পার্টির ডেপুটি চেয়ারম্যান নুমান কুর্তুলমুস বলেন, জেরুজালেম ফিলিস্তিনের রাজধানী এবং মুসলিমদের হৃদয়।

মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ। এই পরিকল্পনাকে লজ্জার চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইসরাইলের প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত সংগঠনটি।

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা প্রত্যাখান করেছে। এই বিষয়ে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী নেতা মোহাম্মেদ আলি-আল হুতি বলেন, এই পরিকল্পনা ফিলিস্তিন এবং ওই জাতির ওপর মার্কিন আগ্রাসন।

মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা নিয়ে সৌদি আরব জানিয়েছে, দেশটি ফিলিস্তিনের অধিকার আদায়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সৌদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বুধবার জানায়, সৌদি বাদশাহ সালমান ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ফোনে ফিলিস্তিনের অধিকার আদায়ে পাশে থাকার কথা জানিয়েছে।

ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জানায় এই শান্তি পরিকল্পনা ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনে দ্বন্দ্ব মেটানোর জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

এছাড়া ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা নিয়ে জাতিসংঘ জানায় তারা ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনের শান্তি চায়। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টেফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে এমনটি জানায়।

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার বহুল প্রতীক্ষিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যেখানে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের অবিচ্ছেদ্য রাজধানী রাখার অঙ্গীকার আছে। একই সঙ্গে তিনি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রেরও প্রস্তাব করেছেন। পশ্চিম তীরের ইহুদী বসতির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনায়।

ইত্তেফাক/এআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত