বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭
৩১ °সে

ভাইরাল ভিডিওতে চুমুর দৃশ্য দেখে‌ দুই বোনকে খুন

ভাইরাল ভিডিওতে চুমুর দৃশ্য দেখে‌ দুই বোনকে খুন
এমনই এক খুনের শিকার হয়েছিলেন কান্দিল বালোচ। ছবি: বিবিসির ভিডিও থেকে নেওয়া

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দুই তরুণীকে পুরুষের চুম্বন করার দৃশ্য দেখে তাদের খুন করা হয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি মোহাম্মদ আসলামকে গ্রেফতার করেছে পাকিস্তানের পুলিশ। তিনি ১৬ এবং ১৮ বছর বয়সী দুই তরুণীকে গুলি করে হত্যা করেন। ঐ তরুণীদের চাচাতো ভাই হন তিনি।

ঐ ভিডিওটি যিনি রেকর্ড করেছেন তাকে এবং তরুণীদের কিছু আত্মীয়কেও আটক করেছে পুলিশ।

এক বছর আগে ৫২ সেকেন্ডের ঐ ভিডিওটি করা হয়। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটি ভাইরাল হয়।

ভিডিওটি বিবিসি দেখেছে। এতে উমর আয়াজ নামে এক ব্যক্তিকে নির্জন জায়গায় বোরকা পরা তিন নারীর সঙ্গে দেখা যায়। এরপর তিনি তাদের মধ্যে দুজন তরুণীকে চুম্বন করেন। নোংরা ভিডিও তৈরির অভিযোগে পুলিশ তাকেও গ্রেফতার করেছে।

আটক ব্যক্তি বিবাহিত ও দুই সন্তানের বাবা বলে জানা গেছে। আর তৃতীয় নারী, যাকে চুম্বন করা হয়নি তিনি সন্দেহভাজন খুনির স্ত্রী। তিনি এখন পলাতক রয়েছেন।

যার ফোন ব্যবহার করে এই ভিডিও করা হয় সেই ফিদা ওয়াজিরকেও আটক করেছে পুলিশ।

এই জোড়া খুনের খবর জানাতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ গোপন করার অভিযোগে খুন হওয়া এক তরুণীর বাবা এবং ভাইকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার মোহাম্মদ আসলাম। বেশ কিছুদিন ধরে পলাতক ছিলেন। ছবি: বিবিসি

গত সপ্তাহে খাইবার পাকতুনখোয়া প্রদেশের উত্তর ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের সীমান্তবর্তী গারিওম অঞ্চলে শাম্পলান গ্রামে ঐ দুই তরুণীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

প্রত্যন্ত এই অঞ্চলটি সামাজিকভাবে খুবই রক্ষণশীল। পাকিস্তানের কেন্দ্র সরকারের আইনের চেয়ে স্থানীয় জাতিগোষ্ঠীর আইন সেখানে বেশি চলে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, নারীর প্রতি সহিংসতা এখনও পাকিস্তানে বড় ধরনের সমস্যা।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, পাকিস্তানে প্রতি বছর প্রায় এক হাজার তথাকথিত ‘অনার কিলিং’ ঘটে থাকে। সমাজ কিংবা পরিবারের সম্মানহানির কথিত নানা অভিযোগে নারীরা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হন।

এর আগে ২০১৬ সালে এমনই একটি ‘অনার কিলিং’-এর ঘটনা ঘটে পাকিস্তানে। সে সময় মডেল কান্দিল বালোচকে গলা টিপে হত্যা করে তার ভাই মোহাম্মদ ওয়াসিম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খোলামেলা ছবি পোস্ট করতেন তিনি।

কান্দিল বালোচের ভাই পুলিশের কাছে বলেছিলেন, এক মুসলিম নেতার সঙ্গে তার বোনের তোলা ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই তিনি হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত