বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২০, ১৯ আষাঢ় ১৪২৭
৩১ °সে

যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ অব্যাহত, কমেছে সহিংসতা

যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ অব্যাহত, কমেছে সহিংসতা
যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর বিচার দাবিতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর বিচার দাবিতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবারও বিভিন্ন শহরে কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভে অংশ নেয় লাখ লাখ মার্কিনি। তবে অন্য দিনের তুলনায় এদিন সহিংসতা অনেক কম হয়েছে। লুটপাটের ঘটনাও কমেছে। এদিকে ওয়াশিংটন ডিসিতে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী। পেন্টাগন জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ডিসিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করতে ১ হাজার ৬০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। আর সারাদেশে ইতিমধ্যে ন্যাশনাল গার্ডের অর্ধেকের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। খবর : সিএনএন, বিবিসি ও আলজাজিরার।

গত ২৫ মে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড মারা যান। এর প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে টানা আট দিন ধরে বিক্ষোভে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অনেক শহরে পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে। প্রতিবাদ বিক্ষোভ দমনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেনাবাহিনী নামানোর হুমকি দিয়েছেন। জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। তবে বিক্ষোভকারী ও ফ্লয়েডের পরিবারের দাবি, ঘটনায় জড়িত চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করতে হবে।

মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে কারফিউ জারির পর সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউজের সামনে থেকে সরেনি বিক্ষোভকারীরা। যদিও এদিন তাদের সংখ্যা আগের তুলনায় কম ছিল। সেখানে সারাদিন বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও রাতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

সোমবার হোয়াইট হাউজের কাছে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হেঁটে নিকটবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত একটি গির্জায় যান। সেখানে বাইবেল হাতে ছবি তোলেন তিনি। গতকালও ওয়াশিংটন ডিসির আরেকটি গির্জায় সফরে যাওয়ার কথা ছিল তার। তবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এ ধরনের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন ধর্মীয় নেতাদের অনেকে।

মঙ্গলবার নিউ ইয়র্ক শহরেও ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে। কারফিউ অমান্য করে রাস্তায় অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। ম্যানহাটানে আগের রাতে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেনি বলে অভিযোগ তুলেছেন নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো। তিনি ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করতে পারেন বলে জানিয়েছেন। মঙ্গলবারও নিউ ইয়র্কে কয়েকশ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

ওয়াশিংটন আর নিউ ইয়র্ক বাদেও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরেই বিক্ষোভ হয়েছে। কিছু শহরে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে জর্জ ফ্লয়েডের পরিবারের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় অংশ নিতে টেক্সাসের হিউস্টন শহরে জড়ো হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।

ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে দুই হাজারের বেশি মানুষ সিটি হলের দিকে পদযাত্রা করছে। ফিলাডেলফিয়াতেও সিটি হলের দিকে বিক্ষোভকারীদের পদযাত্রা কর্মসূচি চলছে। টেনেসির ন্যাশভিলে বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে নিজেদের সুরক্ষা উপকরণ নামিয়ে অবস্থান নিতে দেখা যায় ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের।

এদিকে টানা বিক্ষোভ চলায় যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয়বারের মতো করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সার্জন জেনারেল জেরোমি অ্যাডামস। আর জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার নিন্দা জানিয়ে পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, এই ঘটনা খুবই হূদয়বিদারক। বর্ণবাদ একটি বড়ো পাপ।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত