বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭
৩০ °সে

‘চীনকে তোষণ করার নীতি থেকে সরে আসুক ভারত’

‘চীনকে তোষণ করার নীতি থেকে সরে আসুক ভারত’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

চীনের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি নেওয়ার জন্য মোদি সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে দেশটির উইঘুর মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।

চীনকে চাপে রাখতে মাঝে মধ্যেই তিব্বতকে কাজে লাগিয়েছে ভারত। কিন্তু উইঘুরদের নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে সরব হতে দেখা যায়নি ভারতীয় নেতৃত্বকে। কিন্তু উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিগত বছরগুলোতে দমন নীতির অভিযোগ তীব্র হচ্ছে চীনের কমিউনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে।

‘ওয়র্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস’-এর প্রেসিডেন্ট দোলকুন ইসা মিউনিখে নির্বাসিত। এক ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, 'চীনের সঙ্গে তোষণের নীতি চলে না। মানবতার বিরোধী চীনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত ভারতের।' চিনের শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুরদের উপর যখন দমননীতি শুরু হয়, সেই আশির দশকের শেষে দোলকুন ইসা ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তখন থেকেই রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই শুরু। শাসকের রোষানলে পড়ে ১৯৯৪ সালে জার্মানিতে পালিয়ে যেতে হয় তাঁকে। সেখান থেকেই উইঘুরদের উপর নির্যাতন নিয়ে প্রচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

গালওয়ান উপত্যকায় চীন-ভারতের সৈন্যদের সংঘাতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইসা বলেন, 'চীনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং আগ্রাসী পদক্ষেপের এটা সাম্প্রতিকতম উদাহরণমাত্র। তারা ক্রমশ বর্হিবিশ্বে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। হংকংকে তার প্রাপ্য স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করছে। তাইওয়ানকে হুমকি দিচ্ছে। সব প্রতিবেশীদের পিছনে লাগছে। দক্ষিণ চীন সাগরে মিথ্যা অধিকার দাবি করছে। মেকং নদীতে বাঁধ দিচ্ছে নদীর নিম্নভাগের প্রতিবেশীদের কথা চিন্তা না করে। কোভিড নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করায় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার ও অন্যান্য সাধারণ নীতির ধারই ধারছে না।'

২০১৬ সালে ভারত ভিসা দিয়েছিল দোলকুনকে। চীন প্রতিবাদ করায় সেই ভিসা বাতিল করা হয়। দোলকুন বলছেন, 'এ বার অন্তত চীনকে তোষণ করার নীতি থেকে সরে আসুক ভারত। উইঘুরদের অধিকারকে মান্য করার জন্য চীনের উপর চাপ তৈরি করুক। শিনজিয়াংয়ে যে ভাবে হাজার হাজার উইঘুরকে বন্দি করে রাখা হচ্ছে, তা নিয়ে মুখ খোলার জন্য ভারতকে অনুরোধ করছি। এখনও পর্যন্ত তারা এ নিয়ে নীরব।'

শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর স্বশাসিত অঞ্চলকে কার্যত পদানত করে রেখে দিয়েছে বেজিং— এই দাবিতে সম্প্রতি সরব আমেরিকা এবং ইউরোপের কিছু দেশ। কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, গালওয়ান হিংসার সঙ্গেও এর পরোক্ষ যোগ রয়েছে। লে থেকে কারাকোরাম পর্যন্ত যে রাস্তার নির্মাণ নিয়ে ভারতের প্রতি এত উত্তেজনা প্রকাশ চীনের, তার একটি বড় কারণ হল, বেজিংয়ের আশঙ্কা, এর ফলে আকসাই চীন এবং শিনজিয়াংয়ে নজরদারি বাড়াতে পারবে ভারত।

কিন্তু কোভিড সঙ্কটের মধ্যেই কেন চীন তাদের আগ্রাসন নীতি বাড়াল? উইঘুর নেতার মতে, 'এ সবই উগ্র জাতীয়তাবাদের প্রতিফলন। দেশবাসীকে দেখানো, যে রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শক্তিশালী হচ্ছে। আসলে ওরা যখন দুর্বল, তখনই বেশি হুমকি দেয়। এরই মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছে। হংকং, উইঘুর, তিব্বতের উপর কমিউনিস্ট পার্টির অত্যাচার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিশ্ব। ফলে ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক— উভয় ক্ষেত্রেই প্রবল চাপের মুখে রয়েছে তারা।' আনন্দবাজার।

ইত্তেফাক/আরএ

ঘটনা পরিক্রমা : ভারত-চীন

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত