বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭
২৯ °সে

ভ্যাকসিনের আগে বিমান ভ্রমণে অনীহা যে কারণে

ভ্যাকসিনের আগে বিমান ভ্রমণে অনীহা যে কারণে
করোনাকালীন বিমান ভ্রমণ। ছবি: সংগৃহীত

করোনা ভাইরাসের কারণে পৃথিবীর অনেক দেশে লকডাউনের পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে এগোচ্ছে। আগের চেয়ে অনেক কম গতিতে হলেও মানুষ কর্মমুখী হচ্ছে। যদিও এখনো আগের মতো স্বাভাবিক হয়নি বিমান যোগাযোগ। বিমান ভ্রমণে আস্থা ফেরেনি অনেকের। বিমান ভ্রমণের বিষয়ে অনেকের মধ্যেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া নিয়ে একধরনের বাড়তি ভীতি কাজ করছে। এ কারণে কাজের প্রয়োজনে কিংবা ভ্রমণের জন্য যাদের বিমানে চলাচল করা প্রয়োজন হতো তাদের অনেকেই মনে করছেন কার্যকরী ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত বিমানে চড়া যথেষ্ট নিরাপদ নয়।

এদের বেশির ভাগই মনে করেন, আগের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিধান চালু হলেও তা করোনা ভাইরাস থেকে পুরোপুরি রক্ষা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। আবার অনেকেই মনে করেন, করোনা ইস্যুকে তিনি যেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন অন্য অনেক যাত্রী তেমন গুরুত্ব না-ও দিতে পারেন। ফলে বিমানের উদাসীন এবং খামখেয়ালি অনেক যাত্রীর কারণে অন্যদের চরম মূল্য দিতে হতে পারে। মূলত এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাত্রীদের বিমানে করে যাতায়াতের মধ্যমেই এই ভাইরাস পৃথিবীর কোণে কোণে ছড়িয়ে গেছে। এ কারণেই মানুষের মধ্যে বিমান সম্পর্কে একটা ভীতি কাজ করছে।

মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে যে ভীতির সৃষ্টির হয়েছে তা শিগিগর কমার কোনো লক্ষণ নেই। করোনা ভাইরাস নিয়ে যারা আতঙ্কগ্রস্ত এবং বেশ সতর্ক তাদের বেশির ভাগ মনে করেন ভ্যাকসিন ছাড়া মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয় এই মহামারি থেকে। অনেক দেশের বিমান কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বিমান ভ্রমণে আস্থা ফেরাতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েও আশানুরূপ সাড়া মিলছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার ৪১ বছর বয়সি ক্রিস ত্রিন প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে জাপানে যান। তার স্ত্রীর বাড়ি জাপানে। কিন্তু এ বছর তিনি বিমান ভ্রমণের ভয়ে জাপানে যাওয়ার পরিকল্পনা বাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিমানে আমরা যত সতর্কভাবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাব অন্য অনেকে যাত্রীই হয়তো সেইভাবে তা মেনে চলবে না। এমন পরিস্থিতিতে অন্যদের বিশ্বাস করাটা সত্যিই কঠিন।

ক্রিস ত্রিনের পরিবারের মতো অবসরে যাওয়া স্বাস্থ্য প্রকৌশল ম্যানেজার ভিনসেন্টা মার্সেগেলিয়াও (৭০) মনে করেন, বিমানে উঠলে যেমন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে তেমনি বিমানবন্দরেও ভয় থেকেই যায়। তিনি বলেন, আমার বয়স হয়েছে। এ কারণে আমাকে একটু বেশি সতর্ক থাকতে হয়। আমি সবার থেকে সামাজিক এবং শারীরিক দূরত্ব মেনে চলি। এমনকি নিজের স্ত্রী ছাড়া কারো সঙ্গে গাড়িও শেয়ার করি না। তাই কার্যকরী ভ্যাকসিন না পাওয়া পর্যন্ত বিমান ভ্রমণও এড়িয়ে চলতে চাই।—সিএনএন

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত