একটি ভাইরাস কি অন্যটিকে ঠেকাতে পারে?

একটি ভাইরাস কি অন্যটিকে ঠেকাতে পারে?
ফাইল ছবি

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে সাধারণত বেশ কয়েকটি উপসর্গ নিয়ে হাজির হয়। যদিও কিছু রোগীর ক্ষেত্রে সেই অর্থে কোনো উপসর্গই থাকে না। করোনা ভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মহামারি দেখা দেওয়ার পর বিজ্ঞানীদের সামনে নতুন এক প্রশ্ন হাজির হয়েছে সার্স-কোভ-টু অর্থাৎ করোনা ভাইরাস অন্য ভাইরাসের সঙ্গে কেমন আচরণ করবে?

শ্বাসতন্ত্রের রোগ সৃষ্টিকারী সব ভাইরাসই মানবদেহের একটি জায়গাতেই সংক্রমণ ঘটায় আর তা হলো, মানুষের নাক, গলা ও ফুসফুসের কোষগুলোকে আক্রান্ত করে। তাই একাধিক ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করলে সেই ভাইরাসগুলোর মধ্যে এক ধরনের লড়াই শুরু হতে পারে। সেই লড়াই জায়গা দখলের লড়াই। বেশ কিছু জরিপে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন—এক ধরনের ভাইরাস সংক্রমণ অন্য আরেকটি ভাইরাসকে ঠেলে সরিয়ে দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, ইউরোপে রাইনো ভাইরাস সংক্রমণের কারণেই ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের সংক্রমণ বিলম্বিত হয়েছিল।

গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরাস গবেষণা কেন্দ্রের ড. পাবলো মারসিয়া বলেন, একটি ভাইরাসের আক্রমণের ফলে মানবদেহে যে রোগ-প্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া হয়, তা অন্য কিছু ভাইরাসকে অন্তত খানিকটা সময়ের জন্য তার আক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করতে পারে। তবে অন্য কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে—কিছু কিছু ভাইরাস বেশ ‘মিলেমিশে’ থাকতে পারে এবং পাশাপাশি বিস্তার ঘটাতে পারে। প্রশ্ন হলো করোনা ভাইরাসের বেলায় কী ঘটবে? ড. মারসিয়া বলেন, আমাদের উপাত্তে দেখা যায়—মিশ্র সংক্রমণের ক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়ানোর ঘটনা খুবই বিরল। তিনি বলেন, আমার মনে হয় একই সঙ্গে সার্স-কোভ-টু এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়ানোটা হয়তো আমরা খুব বেশি দেখতে পাব না। একসঙ্গে দুটি ভাইরাসেই সংক্রমিত হয়েছেন এমন লোক খুবই কম পাওয়া গেছে। তবে যখন এটা ঘটেছে তখন সাধারণত উপসর্গগুলো অনেক বেশি গুরুতর হয়।

তবে ড. মারসিয়া বলেন, অন্য কিছু করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে অবশ্য দেখা গেছে যে তারা আরএসভি, এডেনো ভাইরাস এবং কিছু প্যারা-ইনফ্লুয়েঞ্জার সঙ্গে একই সময়ে সংক্রমণ ঘটাচ্ছে। তিনি বলেন, আমি বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে আছি।

আর মাস তিনেকের মধ্যেই শীত আসছে। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই এই সময়টাতে ঠান্ডা লাগা বা ফ্লুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এ কারণেই আশঙ্কা করা হচ্ছে—ঋতু পরিবর্তনের সময় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাবে। বলা হচ্ছে, প্রথম দফায় সংক্রমণ যত ব্যাপক ছিল—দ্বিতীয় দফায় তা আরো মারাত্মক হবে। শীতের সময় সাধারণত মানুষ দরজা জানালা বন্ধ করে ঘরে থাকে, আর এ পরিবেশেই করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ত্বরান্বিত হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন—করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ এবং নিয়মিত শীতকালীন ফ্লু দুটো যদি একসঙ্গে হয় তাহলে কী হবে? করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষের আচরণে অনেক পরিবর্তন এসেছে। মানুষ ঘন ঘন হাত ধুচ্ছে, মুখে মাস্ক পরছে, সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করছে, বাড়িতে বসে কাজ করছে। তাই এমন হতে পারে আসন্ন শীতে নিয়মিত ফ্লু ভাইরাসও হয়তো বেশি ছড়াতে পারবে না। উদাহরণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা অস্ট্রেলিয়ার কথা বলছেন। অস্ট্রেলিয়াতে এখন শীত চলছে। সেখানে ঠিক এই ব্যাপারটাই দেখা যাচ্ছে। করোনা ভাইরাসের সময় সেখানে শীতকালীন ফ্লু প্রায় দেখা যাচ্ছে না বললেই চলে।—বিবিসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত