উগ্র জাতীয়তাবাদকে বর্জনের আহ্বান জানাল জাপান

হিরোশিমা দিবসের ৭৫তম বার্ষিকী পালিত
উগ্র জাতীয়তাবাদকে বর্জনের আহ্বান জানাল জাপান
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে হিরোশিমা দিবস পালন করেছে জাপান [ছবি: সংগৃহীত]

হিরোশিমা দিবসের ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে জাপানের পক্ষ থেকে উগ্র জাতীয়তাবাদকে বর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র কিংবা কোভিড-১৯-এর মতো মহামারির বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মানুষের সম্মিলিত লড়াইয়ের ওপর জোর দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এবং হিরোশিমার মেয়র কাজুমি মাতসুই।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা শহরে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম পারমাণবিক বোমা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ঐ পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিক প্রায় দেড় লাখ মানুষ নিহত হন। মাটির সঙ্গে মিশে যায় বেশির ভাগ স্থাপনা। ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয় একটি নগরী। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বছর শেষে আরো ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি স্মরণ করেছে জাপান।

সেই হামলা থেকে বেঁচে যাওয়াদের পাশাপাশি হামলায় নিহতদের আত্মীয়স্বজন ও বিদেশি প্রতিনিধিরা এসব আয়োজনে অংশ নেন। নিহতদের আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি বিশ্বশান্তিরও ডাক দিয়েছেন তারা। তবে করোনার কারণে এবার হিরোশিমা দিবসে হিরোশিমার পিস মেমোরিয়াল পার্কে জনসমাগমের অনুমতি দেওয়া হয়নি। দিবসের সব আয়োজন অনলাইনে সম্প্র্রচার করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই ছিলেন মাস্ক পরিহিত।

দিবসটি উপলক্ষে হিরোশিমার মেয়র কাজুমি মাতসুই উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তার মতে, এই উগ্র জাতীয়তাবাদই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মাতসুই। তিনি বলেছেন, ‘এমন দুঃসহ অতীতের পুনরাবৃত্তি আমরা হতে দিতে পারি না। সভ্য সমাজকে অবশ্যই আত্মকেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদ পরিত্যাগ করতে হবে এবং সব হুমকির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ মাতসুই বলেছেন, হিরোশিমা আমাদের নাগরিক সমাজের কাছে বিশ্বশান্তি অব্যাহত রাখা ও পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপকে সম্ভব করে তোলার তাগিদ হাজির করে। জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে তার বিবৃতিতে বলেছেন, প্রত্যেক দেশেরই উচিত পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংলাপের মধ্য দিয়ে নিজেদের মধ্যকার অবিশ্বাস দূর করা।

হিরোশিমার ঘটনার তিন দিন পর ৯ আগস্ট নাগাসাকি শহরে ফ্যাটম্যান নামে আরেকটি পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়। তাতে প্রায় ৭৪ হাজার মানুষ নিহত হন। তবে জাপানের আসাহি শিমবুনের এক হিসাবে বলা হয়েছে, বোমার প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট রোগসমূহের কারণে দুই শহরে ৪ লাখের মতো মানুষ মারা যান। আণবিক বোমা হামলার এতো বছর পরও শহর দুটোতে জন্ম নিচ্ছে বিকলাঙ্গ শিশু। ক্যানসারসহ দুরারোগ্য রোগে ভুগছে বহু মানুষ। -খবর বিবিসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত