যেমন ছিল সেই রোমান যুগের ‘বাণিজ্যিক’ এলাকা

যেমন ছিল সেই রোমান যুগের ‘বাণিজ্যিক’ এলাকা
যুক্তরাজ্যের নর্থহ্যাম্পটনশায়ার বরো অব কর্বির প্রত্নতাত্ত্বিকরা প্রিয়ার্স হল পার্কের একটি এলাকা খুঁড়ে এই বিরল তথ্য খুঁজে পেয়েছেন। ছবি; সংগৃহীত

কেমন ছিল দেড়/দুই হাজার বছর আগের মানুষের জীবন? বর্তমান শিল্পোন্নত যুগে বসে এমন কৌতূহল আমাদের থাকাটাই স্বাভাবিক। তখনকার জীবনযাত্রা কিংবা তাদের শিল্পজ্ঞান সম্পর্কে জানতে পারলে আমরাও নিজেদের সঙ্গে তুলনা করতে পারি যে, আধুনিক এই যুগে তাদের থেকে কতটুকু এগোতে পেরেছি আমরা। প্রত্নতাত্ত্বিকরা আমাদের সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দিতে খুঁড়ে চলেছে একের পর এক ঐতিহাসিক স্থান। ব্রিটেনে মাটির গভীরে খুঁড়ে তেমনই একটি স্থান পাওয়া গেছে। এটি রোমান যুগের ‘শিল্প এলাকা’! কেমন ছিল তাদের বাণিজ্যিক এলাকাগুলো, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সাহায্য করবে তাদের এই উদ্ভাবন।

গবেষকরা বলছেন, রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে ব্রিটেনে ‘শিল্পনগরী’ কিংবা সেখানকার জীবন কেমন ছিল তার বিশদ চিত্র পেয়েছেন তারা। এটি নিয়ে বিস্তর গবেষণা করা হবে। যুক্তরাজ্যের নর্থহ্যাম্পটনশায়ার বরো অব কর্বির প্রত্নতাত্ত্বিকরা প্রিয়ার্স হল পার্কের একটি এলাকা খুঁড়ে এই বিরল তথ্য খুঁজে পেয়েছেন। মাটির বেশ নিচে তারা রোমানদের গোটা একটা ‘শিল্পনগরী’র হদিস পেয়েছেন। সেখানে পাওয়া গেছে বাণিজ্যিক তত্পরতা চালানোর নানা আলামত। দেখা গেছে, বাণিজ্যিক প্রয়োজনে শ্রমিকরা বড় আকারের পাথর ও কাদামাটি উত্তোলন করত। সেগুলো অবিকৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এছাড়া দেখা গেছে পাশাপাশি কয়েকটি টাইলস তৈরির ভাটি, মর্টার তৈরির কাজে ব্যবহারের জন্য একটি বৃহত্ বিস্ফোরক উত্পাদনের ভাটি এবং পাঁচটি মৃিশল্পের জন্য নির্মিত স্থাপনা। হাজার বছর মাটির নিচে থাকা সত্ত্বেও এসব স্থাপনা ও ভাটি আলাদা করতে তাদের মোটেও কষ্ট হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। সেখানে টাইলসের ভাটিতে বিড়ালের প্রিন্টসহ টাইল খণ্ডও পাওয়া গেছে। এসব টাইলস বা পণ্যগুলোর গায়ে নানারকম অক্ষর মুদ্রিত আছে যেগুলোর অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। তারা গহনা এবং অন্যান্য সরঞ্জামও প্রস্তুত অবস্থায় পেয়েছেন। পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ পশুর হাড় এবং ধাতব মুদ্রা। গবেষক দলটি বলছে, প্রাপ্ত জিনিসগুলো তখনকার মানুষের জীবনযাপন সম্পর্কে বিরল সব তথ্য সরবরাহ করছে। সেখানে আরো পাওয়া গেছে, এক ধরনের মুদ্রা যা রোমান সম্রাট এলেকটাস সেই ২৯৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রচলন করেছিলেন। মজার ব্যাপার হলো, সেই মুদ্রায় আবার একটি করে ছিদ্র ছিল যাতে ধনীরা চাইলে মুদ্রাগুলো অলংকার হিসেবেও গলায় গহনার মতো পরতে পারেন।

গবেষকরা বলছেন, আমরা এখন বুঝতে পারছি এই নতুন আবিষ্কারগুলো কতটা মহামূল্যবান। সেই যুগের মানুষগুলো ভবনগুলো কীভাবে নির্মাণ করেছিল আমরা সে ব্যাপারেও সম্যক ধারণা পেতে চাই। আরো জানতে চাই কী উপকরণ তারা ব্যবহার করতেন।—সিএনএন

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত