যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২০

আনুষ্ঠানিক বিতর্কের আগেই ট্রাম্প-বাইডেন তুমুল বাহাস!

আনুষ্ঠানিক বিতর্কের আগেই ট্রাম্প-বাইডেন তুমুল বাহাস!
জো বাইডেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

আনুষ্ঠানিক বিতর্ক ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে। কিন্তু তার আগেই তুমুল বাহাস চলছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্রেটিক প্রার্থী ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যে।

দিন যত যাচ্ছে দুই প্রার্থীর কথার ফুলঝুরি, নেতিবাচক সমালোচনা এবং একে অন্যের দোষ ত্রুটি তুলে ধরার প্রবণতা ততই বাড়ছে। তবে এই বাহাস এক প্রকার বিনোদনে পরিণত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের মধ্যে। বিশেষ করে ট্রাম্পের বক্তব্যগুলো নিয়ে অনেকসময় হাস্যরসের সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু হাসতে হাসতে ট্রাম্প অনেক সিরিয়াস কথা বলছেন, এমনটাও মনে করেন তার সমর্থকেরা।

আগামী ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। কোভিড-১৯ এর কারণে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র থেকে এখনো তাপ-উত্তাপ শুরু হয়নি। তবে প্রচার প্রচারণা চলছে ভিন্নমাত্রায়। হোয়াইট হাউজে থেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচনী প্রচারে নানান সুবিধা নিচ্ছেন ট্রাম্প। নিজে ছাড়াও তার প্রচারে বরাবরের মত যুক্ত হয়েছেন ট্রাম্পের ছেলে ট্রাম্প জুনিয়র, মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প এবং জামাতা জারেড কুশনার।

তাদের প্রচারণার সঙ্গে, অর্থাৎ সত্য-মিথ্যার সমালোচনার দৌড়ে পেরে উঠছেন না ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেন এবং রানিং মেট কমলা হ্যারিস। এই দুজন একটি টুইট করলে এক ডজন পাল্টা টুইট করছেন ট্রাম্প ও তার স্বজনেরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরো প্রশাসনই কাজ করছে প্রেসিডেন্টের নির্দেশে। অবশ্য, কার টুইট কতটুকু সত্য আর কারটা কতটা মিথ্যা তা যাচাই করছে টুইটার কর্তৃপক্ষ। এ পর্যন্ত ট্রাম্পের বেশকিছু টুইট মুছে দিয়েছে টুইটার। এ নিয়ে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

নির্বাচনকে ঘিরে এ পর্যন্ত যেসব বাহাস উঠে এসেছে তার মধ্যে রয়েছে জো বাইডেনের বয়স অনুযায়ী দেশ শাসনের যোগ্যতা, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রতিশ্রুতি পূরণের ব্যর্থতা এবং ডেমোক্রেট রাজনীতির নেতিবাচক দিক অন্যতম। এছাড়া প্রার্থীতা ঘোষণার শুরুতে জো বাইডেনের ছেলে হান্টারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন ট্রাম্প। পরে অবশ্য তা হালে পানি পায়নি।

এখনো ট্রাম্প তার বক্তব্যে বাইডেনকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা বলেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম জো বাইডেনের প্রচার।

রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তৃতীয় ব্যক্তি যিনি প্রেসিডেন্ট হিসাবে হাউজে অভিশংসিত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ডেমোক্রেটদের হাজারো অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে জো বাইডেন এখনো ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কট্টর সমালোচনা শুরু করেননি। তবে তিনি ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অযোগ্য প্রেসিডেন্ট দাবি করে তার নানান ভুল কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন।

ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেন যতটুকু নয় তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক অনেক কর্মকর্তা। ট্রাম্পের আইনজীবী হিসাবে মাইকেল কোহেন ইতিমধ্যে বই লিখে ট্রাম্পের অনেক গোপন কর্মকাণ্ড ফাঁস করেছেন। তবে জো বাইডেন এখনো অন্য কারো উদ্ধৃতি টেনে ট্রাম্পকে আক্রমণ শুরু করেননি।

সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্যালিফোর্নিয়া সফরের কিছু আগে নিজের রাজ্য দেলাওয়ার থেকে দেওয়া এক বক্তব্য দেন জো বাইডেন। সেখানে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন অস্বীকার করে এমন লোককে আরও চার বছরের জন্য হোয়াইট হাউসে পাঠালে পরিণতি হবে ভয়াবহ। যুক্তরাষ্ট্র আরও পুড়বে, আরও পানিতে ডুববে।

এখানে উল্লেখ্য, সোমবার ক্যালিফোর্নিয়াতে দাবানল নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের প্রধান ওয়েড ক্রোফুটের সঙ্গে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ক্রোফুট তখন প্রেসিডেন্টকে জানান যে জলবায়ুর উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানল নাজুক হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার এই কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ডেমোক্রেটদের র‌্যাডিক্যাল আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এখন সময় এসেছে আমেরিকানদের নতুন স্বপ্ন দেখার। তিনি বলেন, ডেমোক্রেটরা আর আগের মত নয়, তারা শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন না।

সোমবার সন্ধ্যায় মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যারিসন চার্টার টাউনশিপের বাম্পার্স ল্যান্ডিং বোট ক্লাবে এক নির্বাচনী সমাবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এসব কথা বলেন। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ ইভেন্টের হোস্ট হিসেবে মিশিগান সফরে গেছেন ট্রাম্প জুনিয়র। বাবা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য ভ্রমণ করছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র আরও বলেন, জো বাইডেন তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণে ট্রাম্পকে আরও চার বছরের জন্য ভোট দিতে তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেনের তীব্র সমালোচনা করে তাকে কম বুদ্ধির লোক এবং কোন মতে সজাগ আছেন বলে বর্ণনা করেন। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি নিশ্চিত জয়ী হবেন উল্লেখ করে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি কম বুদ্ধির একজন লোকের কাছে হেরে যাবো, আমি তা চাই না। তিনি জো বাইডেনকে ‘স্লিপি জো’ হিসেবেও উল্লেখ করে বলেছিলেন, এই লোক জানে না যে সে বেঁচে আছে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি করোনা ভাইরাস। এ পর্যন্ত দেশটিতে করোনা ভাইরাসে মারা গেছে ১ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি লোক। তবু ট্রাম্প দাবি করে চলেছেন, করোনা নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।

ট্রাম্প জো বাইডেনকে চরম নিম্নমানের প্রার্থী উল্লেখ করে ডেমোক্রেটদের সবচে খারাপ প্রার্থী হিসেবে বর্ণনা করেন। এমনকি বাইডেন ঈশ্বর বিরোধীও অপবাদ দিতে পিছপা হননি ট্রাম্প।

ট্রাম্প ও বাইডেনের এই বাহাস ২৯ তারিখের বিতর্কের মঞ্চে কতটা উত্থাপিত হবে তা এখন দেখার বিষয়। তবে সবকিছু নির্ভর করছে উপস্থাপক ক্রিস ওয়ালেসের ওপর।

উল্লেখ্য, ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ওহাইও রাজ্যের ক্লেভল্যান্ডের কেজ ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটিতে প্রথমবার আনুষ্ঠানিক বিতর্কে যোগ দেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জো বাইডেন। দ্বিতীয় এবং শেষ বিতর্কটি অনুষ্ঠিত হবে ১৫ ও ২২ অক্টোবর।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত