দোদুল্যমান ভোটারদের সামনে তালগোল পাকালেন ট্রাম্প

দোদুল্যমান ভোটারদের সামনে তালগোল পাকালেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প [ফাইল ছবি]

যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন উপলক্ষে মঙ্গলবার পেনসিলভানিয়ায় এবিসি নিউজের টাউন হলে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে দোদুল্যমান ভোটারদের সামনে রীতিমতো তালগোল পাকিয়ে ফেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের একটু কৌশলী প্রশ্নের বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর না দিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে চলে যান। পেনসিলভানিয়াতেও ট্রাম্পকে স্বভাবজাতভাবে কিছুটা অসংলগ্ন দেখা যায়।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ট্রাম্প ততটাই বিচলিত হয়ে পড়ছেন বলে মনে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্পের চেয়ে তার ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন ভালো অবস্থানে আছেন বলে দেখা যায়।

মঙ্গলবার ফিলাডেলফিয়ার ঐতিহাসিক ন্যাশনাল কনস্টিটিউশন সেন্টারে অনিশ্চিত ভোটারদের মুখোমুখি হয়েছিলেন ট্রাম্প। ৯০ মিনিটের অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবিসি নিউজের জর্জ স্টেফানোপোলোস। অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পান দোদুল্যমান (এখনো কাকে ভোট দেবেন এমন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না করা) ভোটাররা। স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় সবার শীর্ষে ছিল করোনা ভাইরাস মহামারির ইস্যু। বরাবরের মতো এদিনও করোনা মোকাবিলায় নিজের দক্ষতার গুণগান করেন ট্রাম্প। তবে ভোটাররাও ঘাবড়ে না গিয়ে তার চোখে চোখ রেখে কথা বলে প্রেসিডেন্টকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেন। উত্তর দিতে গিয়ে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন, আবার কখনো কখনো অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন।

পেনসিলভানিয়ার এক ভোটার ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, আপনি যদি বিশ্বাস করেন আমেরিকাকে রক্ষা করা প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব, তাহলে মহামারিকে অবহেলা করলেন কেন? এর উত্তরে ট্রাম্প কিছুটা বিব্রত ভঙ্গিতে বলেন, ‘আমি অবহেলা করিনি। বরং বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।’ এরপর বলতে থাকেন, ‘আমি চীনের সঙ্গে কী করলাম? নিষেধাজ্ঞা দিলাম। ইউরোপের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা দিলাম। যদি নিষেধাজ্ঞা না দিতাম, তাহলে আরো কয়েক হাজার মানুষ মারা যেত।’ ট্রাম্প দাবি করেন, করোনা ভাইরাস এমনিতেই চলে যাবে। কোনো ভ্যাকসিনের দরকার হবে না। এ কথায় অবাক হয়ে সঞ্চালক জর্জ স্টেফানোপোলোস জিগ্যেস করেন, ‘ভাইরাস ভ্যাকসিন ছাড়াই চলে যাবে?’ ট্রাম্প তেমন কিছু না ভেবেই বলে ফেলেন, অবশ্যই। তারপর আমতা আমতা করতে করতে বলেন, ‘একটা সময় পর চলে যাবে এটা বলতে চেয়েছি।’

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এক ভোটার ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারণার স্লোগানে বলা হচ্ছে—‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’, অর্থাৎ আমেরিকাকে আবারও মহান করো। কিন্তু আমেরিকায় যেখানে বর্ণবৈষম্য বিদ্যমান, সেখানে দেশটি মহান ছিল কবে? উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মধ্যে এ সমস্যা নেই, কারণ সব বর্ণের মানুষের প্রতি আমার প্রচুর সম্মান রয়েছে। সেটার জন্যই এ দেশ মহান।’ এই উত্তর শুনে অনেককে মুখ চেপে হাসতে দেখা যায়।

ভোটারদের পাশাপাশি ট্রাম্পকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালকও। যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রাণহানির ঘটনা পদ্ধতিগত বর্ণবৈষম্যের ফল কি না, জানতে চান তিনি। ট্রাম্প সরাসরি এর উত্তর না দিয়ে বলেন, ‘সন্ত্রাস থামানোর ক্ষমতা আমাদের পুলিশদেরই দিতে হবে।’ এমন আরো অনেক প্রশ্নে ট্রাম্প যুক্তিহীন উত্তর দেন।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত