গরু পাচারে জড়াল বিএসএফ কর্মকর্তাদের নাম

গরু পাচারে জড়াল বিএসএফ কর্মকর্তাদের নাম
আনন্দবাজার ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনের অংশ।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে গরু পাচারের সঙ্গে বিএসএফ ও শুল্ক কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

গরু পাচারকারী চক্রের সন্ধানে নেমে এমন তথ্য পেয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই।

২০১৮ সালে কেরালায় সিবিআইয়ের দুর্নীতি দমন শাখার হাতে আটক হন ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কমান্ডেন্ট জিবু ডি ম্যাথিউ। আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন প্রায় ৫০ লাখ টাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল। আর এই তদন্ত করতে গিয়েই বেড়িয়ে আসে গরু পাচারের সঙ্গে জড়িত বিএসএফ ও শুল্ক কর্মকর্তাদের নাম।

জিবুকে জেরা করে জানা যায়, ওই টাকার উৎস বিশু শেখ ওরফে এনামুল হক নামে এক ব্যক্তি।

ওই মামলার তদন্তে যুক্ত থাকা এক কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে জিবু স্বীকার করেন, গরু পাচারে বিশু শেখের সিন্ডিকেটকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ওই টাকা পেয়েছিলেন তিনি।

বিএসএফ কমান্ডেন্ট জিবুর মোবাইলের কল রেকর্ড থেকেও মেলে এনামুলের সঙ্গে তার যোগাযোগের প্রমাণ। সেই সূত্র ধরেই আটক করা হয় এনামুলকে।

অভিযোগ করা হয়, বিএসএফ কর্তৃক জব্দকৃত গরু কাস্টমসের কিছু কর্মকর্তার সহায়তায় নিলাম করা হয়েছিল, যাতে গবাদি পশু ব্যবসায়ীরা এগুলো খুব কম দামে কিনতে এবং আইনিভাবে আবার বিক্রি করতে পারে।

সিবিআই অভিযোগ করছে, এই সহযোগিতা করায় প্রতিটি গরুর জন্য বিএসএফ কর্মকর্তারা দুই হাজার টাকা এবং শুল্ক কর্মকর্তারা ৫০০ টাকা পেতেন। এছাড়াও শুল্ক কর্মকর্তারা নিলামের দামের ১০ শতাংশ ঘুষ হিসাবে পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।

সিবিআইয়ের কর্মকর্তাদের দাবি, এনামুলকে জেরা করতে গিয়ে জানা যায়, শুধু জিবু নন, মালদহ-মুর্শিদাবাদে কর্মরত বিএসএফের একাধিক কর্মকর্তা গরু পাচার সিন্ডিকেটদের সাহায্য করেন। তার বিনিময়ে তাদের মোটা অংকের টাকার ঘুষ দিত এই সিন্ডিকেট।

সিবিআইয়ের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে জিবু বলেন, মালদহে কর্মরত বিএসএফ কমান্ডেন্ট সতীশ কুমারের মাধ্যমেই এনামুলের সঙ্গে আলাপ হয় তার।

২০১৫ সালে মালদহে বিএসএফের ২০ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পান সতীশ। এরপরের বছর ৮৩ ব্যাটালিয়নের দায়িত্ব পান জিবু।

এই দুটি ব্যাটালিয়নই মালদহ এবং মুর্শিদাবাদের ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তের রানিনগর থেকে ধূলিয়ান এলাকা পর্যন্ত মোতায়েন ছিল। সীমান্তের এই অংশগুলো ছিল এনামুলের গরু পাচারের রুট।

তবে এনামুল দাবি করেন, সতীশ নয়, মুর্শিদাবাদে কাজ করে যাওয়া অন্য এক বিএসএফ কর্মকর্তার মাধ্যমে জিবুর সঙ্গে পরিচয় হয় তার।

বুধবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তরপ্রদেশের ১৫টি শহরে অভিযান চালায় সিবিআই। এসময় কলকাতার পূর্ব প্রান্তের সল্টলেকে বিএসএফ কর্মকর্তা সতীশ কুমারের বাসভবন সিল করে দেওয়া হয়। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, আনন্দবাজার

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত