মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ভারত জুড়ে কৃষক বিক্ষোভ

কৃষি বিলের প্রতিবাদ
মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ভারত জুড়ে কৃষক বিক্ষোভ
ভারতে কৃষি বিলের প্রতিবাদে দেশ জুড়ে কৃষকদের ডাকা ধর্মঘটের সময় গতকাল অমৃতসরের একটি রেললাইনের ওপর অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা—এএফপি

মোদি সরকারের কৃষি বিলের প্রতিবাদে কৃষক সংগঠনগুলোর ডাকা ভারত বনেধ ব্যাপক সাড়া মিলেছে। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা ছাড়াও কর্ণাটক, বিহার, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্রসহ দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে রেল রোকো (অবরোধ) ও রাস্তা রোকো কর্মসূচি শুরু হয়েছে গতকাল শুক্রবার থেকে। ফলে জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। অমৃতসর-দিল্লি জাতীয় সড়ক অবরোধের ফলে পুরোপুরি বন্ধ। একই অবস্থা কর্ণাটক-তামিলনাড়ুর মধ্যে যোগাযোগকারী জাতীয় সড়কেও। কৃষকদের অবরোধের ফলে লখনৌ-অযোধ্যা জাতীয় সড়কেও বিশাল যানজট দেখা দেয়। বিহারে কৃষকদের পাশাপাশি আরজেডিও বিক্ষোভে শামিল হয়েছে। লালু প্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বী যাদব ট্র্যাক্টর নিয়ে রাস্তায় নামেন।

ভারত বনেধ ওপরের রাজ্যগুলো ছাড়াও অনেক রাজ্যেই কৃষকরা বিলের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন এবং রেললাইন অবরোধ করেছেন। পাঞ্জাবে কংগ্রেস, অকালি এবং আম আদমি পার্টি কৃষকদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং ঘোষণা করেছেন, আন্দোলনকারীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করলেও পুলিশ এফআইআর করবে না। পাঞ্জাবে কৃষক সংগঠনের নেতারা আগামী ১ অক্টোবর থেকে লাগাতার সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছেন। পাঞ্জাব ও হরিয়ানাও একপ্রকার স্থবির হয়ে আছে। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বলেছেন, এই অন্যায় মেনে নেওয়া হবে না। মোদি সরকার কৃষকদের বড় করপোরেটের দাসে পরিণত করতে চাইছে। তাদের নিজ জমিতে তারা দাস হয়ে পড়বেন। তাদের সম্মান ও অধিকার দুটোই যাবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লি ও উত্তর প্রদেশের সীমানায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিহারে আরজেডি ও কংগ্রেস কর্মীরা পাটনা, দ্বারভাঙ্গাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রতিবাদ জানিয়েছে। রাস্তায় গরু, মহিষ নিয়ে এসে অবরোধ করা হয়েছে। দক্ষিণের রাজ্যগুলোতেও কৃষকরা পথে নেমেছেন।

বিল নিয়ে আপত্তি কেন: সম্প্রতি দুইটি বিল রাজ্যসভায় পাস করিয়েছে সরকার। একটা বাকি আছে। ভারতের আইনে কিছু কৃষি পণ্যের মজুত করার ওপর একটা সীমা ছিল। কারণ মনে করা হতো, এই সীমা না থাকলে মজুতদারদের লাভ হবে। এবার একটি বিলে মোদি সরকার সেই সীমা তুলে নিয়েছে। কৃষকরা বলছেন, এর ফলে ব্যবসায়ীরা জিনিস মজুত করতে পারবে। যখন দাম বেশি থাকবে, তখন তারা বেশি লাভ করবে। দাম কম থাকলে তারা জিনিস কিনবে, ফলে কৃষকদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। আর যে সংস্থা বিদেশে খাদ্যশস্য রপ্তানি করে, তাদের ওপর কখনোই বিধিনিষেধ চাপানো হবে না। ফলে বড় সংস্থা ও করপোরেট পক্ষ এর সুবিধা পাবে।

আরেকটি বিলে কৃষকদের চুক্তি চাষের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মানে ফসল বোনার আগে কোনো কোম্পানির সঙ্গে কৃষক চুক্তি করে নেবে, ফসল কত টাকায় বিক্রি করবে। তৃতীয় বিলে কৃষকদের যে কোনো বাজারে ফসল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের মতে, প্রথমে কৃষকদের বেশি টাকার লোভ দেখিয়ে কিছু কোম্পানি মনোপলি বা একচেটিয়া ব্যবসা করে নেবে। তারপর দাম একেবারে কমিয়ে দেবে। ফলে কৃষকরা পথে বসতে পারেন। এই আশঙ্কার ফলেই কৃষকরা পথে নামছেন। —ডয়চে ভেলে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত