করোনার আধিপত্য আর কতদিন?

করোনার আধিপত্য আর কতদিন?
ডব্লিউএইচও-র প্রধান তেদ্রস আধানম গেব্রেসুস।

যুগে যুগে মহামারির প্রাদুর্ভাবে ‘মৃত্যুর কালোছায়া’ ঘনিয়ে আসার মতো ঘটনাগুলো মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক একটি বীভৎস, অমানবিক ও কালো ইতিহাস বহন করছে। এসব মহামারি নানা সময় নিঃশেষ করে দিয়েছে বহু জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব। করোনা ভাইরাসও তার ব্যতিক্রম পথে হাঁটছে না বলে ধারনা অনেকের। করোনায় এখনও পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৮ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছে৷ আক্রান্তের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত ২ দশমিক ৩ কোটি৷

রেমডেসিভির, ফাভিপিরাভির-এর মতো বেশ কয়েকটি ওষুধ ব্যবহৃত হচ্ছে করোনা রোগীদের চিকিৎসায়। চলতি বছরের মধ্যে আরো কয়েকটি প্রতিষেধকও হয়তো চলে আসবে বাজারে।

বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার কথা স্বীকার করে নেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর ডিরেক্টর জেনারেল। ডব্লিউএইচও-র প্রধান তেদ্রস আধানম গেব্রেসুস জানান, আগামী ২ বছরের মধ্যেই বিশ্ব থেকে বিদায় নেবে করোনা ভাইরাস৷ এই ভয়াবহ মহামারির অবসান হবে ২ বছরের মধ্যে৷

গেব্রেসুসের বলেন, ‘করোনা ভাইরাস মহামারি হল একটি শতাব্দীর স্বাস্থ্য সঙ্কট৷ ১৯১৮ সালের ফ্লু-এর চেয়ে অনেক দ্রুত গতিতে করোনা ছড়িয়ে পড়ার কারণ গ্লোবালাইজেশন ৷ বর্তমান উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে তারও আগে করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব, ১০০ বছর আগে যার কিছুই ছিল না৷’

হু-এর প্রধান আরো বলছেন, ‘আশা করছি ২ বছরের কম সময়ের এই মহামারির অবসান হবে অবশ্যই,যদি আমরা জোরদার চেষ্টা করি৷ ১৯১৮ সালের মহামারি শেষের সময়সীমার আগেই করোনা মহামারির অবসান হতে পারে৷’ তার মতে, আধুনিক উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা বিশ্বব্যাপী করোনার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার জন্য দায়ী। একই ভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের সর্বাধিক ব্যবহারে আগের তুলনায় দ্রুত গতিতে করোনার প্রতিষেধক তৈরিও করা সম্ভব হবে।

ডব্লিউএইচও-এর (জরুরি স্বাস্থ্য সঙ্কট)-এর প্রধান চিকিৎসক মাইকেল রায়ান এক বিবৃতিতে বলেন, ১৯১৮ সালের ফ্লু-এর তিনটি ধাপে পৃথিবীতে এসেছিল৷ এর মধ্যে ১৯১৮ সালে দ্বিতীয় ধাপেই মহামারি আকার ধারণ করে৷ কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এই ফ্লু তে৷ তবে কোভিড-১৯ সেই ধারা অনুসরণ করবে না বলে আশা করেন তিনি৷ সাধারণ ভাইরাস বিভিন্ন মৌসুমে বাড়ে বা নিয়ন্ত্রণে আসে৷ কিন্তু করোনা ভাইরাসের গতিপ্রকৃতি এখনও পর্যন্ত সেরকম নয়৷

ইত্তেফাক/এএইচপি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত